ইরাকের বিক্ষোভে ইরানের শঙ্কা

 

এ কথা জোর দিয়েই বলা যায়, সম্প্রতি ইরাকে চলমান বিক্ষোভে ইরানের শঙ্কা ও উদ্বেগ বাগদাদে ক্ষমতাসীনদের থেকেও বেশি। অথচ তারাই জনগণের আন্দোলন ও দাবি-দাওয়া উত্থাপনের সরাসরি উদ্দিষ্ট ও লক্ষ্যস্থল। ব্যাপক আকার ধারণ করা এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই তা দমনের চেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন কৌশল হাতে নিয়েছে বাগদাদ কর্তৃপক্ষ। যতদূর বোঝা যাচ্ছে, ইরাকি সরকার একা তা দমনের চেষ্টা করছে না, বরং ইরানের মিত্র বাহিনীও সীমান্তে প্রবেশ করেছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মিলে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছে। তারা বিক্ষোভ দমনে গুলি ব্যবহার করছে বা দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে চলমান বিক্ষোভে সক্রিয়দের যে কোনো উপায়ে দমন প্রক্রিয়া অবলম্বন করছে। 
তেহরানের খতিব মুহাম্মদ ইমামি কাশানি ইরানের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। চলতি মাসে হুসাইন (রা.) এর মৃত্যুর চল্লিশা উদযাপন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি ইরাকের বিক্ষোভের অন্য কোনো কারণও খুঁজে পাননি। বিক্ষোভের প্রথম দিকে ইরাক ও ইরানি কর্তৃপক্ষ যেসব অভিযোগের কথা বলছিলেন তিনি সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করেছেন মাত্র। তারা এ-ও বলছিলেন, এটা পরাজিত আইএস ও বাথ পার্টির কূটচাল। তিনি এ ধরনের মন্তব্য না করার কারণ এটা হতে পারে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশই হলো শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। আর তারা এমন কতগুলো সেøাগান দিচ্ছিল, যা হুসাইন (রা.) এর মজলুম হওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ইরানের উদ্বেগের অনেকগুলো কারণ রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো, ইরাকের ওপর তাদের প্রভাব লোপ পাওয়ার আশঙ্কা। যে প্রভাবটি তারা অর্জন করেছিল রাজনৈতিক প্রবাহ ও সামরিক মিলিশিয়ার মাধ্যমে। সেটি যে কোনো নাশকতামূলক তৎপরতার মাধ্যমে পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। ফলে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন হবে বা আগের আরব জাগরণের আদলে ইরাকের সেনাবাহিনী বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়বে। ফলে নতুন আরেকটি ইরাকের জন্ম হবে। তখনকার পরিস্থিতি এখন থেকে ভালো হবে কি না ভিন্ন বিষয়; তবে তা ইরানের চাওয়া থেকে অবশ্যই ভিন্ন রকম হবে। 
তাছাড়া ইরানের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হলো, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ ইরানের সীমানায় প্রবেশ করা। বিশেষ করে তেহরান মনে করে ইরাকিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের চেয়ে বহু কঠিন চাপে বসবাসকারী ইরানি সম্প্রদায়ের মাঝে ও ইরাকের প্রতিবাদকারীদের মাঝে অনেক দিক থেকে মিল রয়েছে। তা ছাড়া আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে ইরানিদের অনুপ্রবেশ রাষ্ট্রের কোষাগারকে নিঃশেষ করে দেবে, যা সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন সময়ে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রায় নিঃশেষিত। এমনিভাবে বিক্ষোভকারীদের সাম্প্রদায়িক মনোভাব, তাদের ওপর শিয়াদের আধিক্য ইরানের জন্য অত্যন্ত পেরেশানির কারণ। 
এর ভিত্তিতেই ইরান প্রশাসন মনে করে, বছরখানেক আগে বা ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর কিংবা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘মীর হুসাইন মাওসুয়ি’ ব্যর্থ হওয়ার প্রতিবাদে সংঘটিত ‘সবুজ বিপ্লব’ নামে খ্যাত বিক্ষোভ সবকিছুর তুলনায় ভয়াবহ আকারে ইরানে শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে ইরাকের বিক্ষোভই ভূমিকা রাখবে। ২০০৯ সালে দমনপীড়নই জনগণের আন্দোলনকে ভ-ুল করেছিল। কিন্তু আজকের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ ইরানের জনগণের মাঝে তাড়াহুড়া প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা প্রশাসনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ‘মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা’ উপেক্ষা করার ক্ষেত্রে মজবুত উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে। এজন্য মনে হচ্ছে, ইরানে বিক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়া ও বিস্তৃত হওয়ার আগে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে এবং যে কোনো মূল্যে ইরাকের বিক্ষোভ বন্ধ করার ক্ষেত্রে তেহরান পূর্ণোদ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। 

লেখক : লেবানিজ সাংবাদিক ও সহযোগী সম্পাদক
 ‘নিউ অ্যারাব’ আরবি থেকে 
ভাষান্তর যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম


কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত
তুর্কি অভিযান কেন?
  কুর্দি মিলিশিয়াদের হটিয়ে ‘সেইফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করার
বিস্তারিত
আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে
  ইসরাইলের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে শিগগিরই ইহুদিদের
বিস্তারিত
ইসলামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হাফেজ এটিএম
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে জানাজার বিশাল সমাবেশ প্রমাণ
বিস্তারিত
প্রসঙ্গ র‌্যাগিং, আপনিও কি একজন
মূলত র‌্যাগিং একরকম নবীনবরণের অর্থ বোঝালেও আদতে তা নবীন শিক্ষার্থীদের
বিস্তারিত