খাদ্যপাত্র ও আঙুল চেটে খাওয়া

আমল

মানুষ খেতে গেলে সব কিছু মজা করে খায়। কিন্তু বড়লোকি ভাব হলো কিছু উচ্ছিষ্ট রাখবে। অথচ নবীজি (সা.) খাদ্যপাত্রের অবশিষ্ট খাদ্যাংশ খেতে খুব পছন্দ করতেন। এর কারণ অনেক কিছু থাকতে পারে, তবে অবশিষ্ট খানায় চর্বি কম হওয়ায় সহজে হজম হয়। তাই তিনি এ খাবারগুলো না খেয়ে ছেড়ে দিতেন না। তবে অধুনা মানব সমাজে অবশিষ্ট খাদ্যাংশ ছেড়ে দেওয়াকে নিজের জন্য মর্যাদাপূর্ণ মনে করে। এমনকি আধুনিকতার উন্নত ছোঁয়াও দাবি করে। এ আধুনিকতা ইসলাম সমর্থন করে না। মূলত খাদ্য আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত। তার মূল্যয়ন করা উচিত। যদি কোনো খাদ্যাংশ পড়ে যায় তাহলে তা ওঠিয়ে খাওয়া সুন্নত। তাতে ময়লা লেগে থাকলেও ধুয়ে খেতে হবে। এরপরও অবিশিষ্ট খাদ্য ফেলে দেওয়া যাবে না। পতিত খাদ্য না ওঠানো অহংকারের লক্ষণ, আর অহংকার হলো শয়তানের স্বভাব। সুতরাং কোনো মোমিন শয়তানের স্বভাবজাত কাজ করতে পারে না। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি কাজের সময় এসে উপস্থিত হয়। এমনকি খাওয়ার সময়ও তার কাছে এসে উপস্থিত হয়। সুতরাং যদি তোমাদের কারও লোকমা পড়ে যায়, সে যেন তা তুলে ময়লা পরিষ্কার করে খায় এবং শয়তানের জন্য রেখে না দেয়। আর খাওয়া শেষে যেন আঙুল চাটে। কেননা সে জানে না যে, তার খাদ্যের কোন অংশে বরকত রয়েছে। (মুসলিম : ৫৪২৩)। হাদিসে আরও আছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, খাদ্যপাত্রের তলচাট রাসুল (সা.) পছন্দ করতেন। (মেশকাত : ৪০৩৩)।
বর্তমান সমাজে প্রাক-ইসলামি যুগের কিছু কুস্বভাবকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রগতিবাদীরা ইসলামি আদর্শকে কানা চোখে দেখে। ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনে তারা বেশ আনন্দ পায়। একইভাবে প্রগতিবাদীরা খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে প্লেট ও আঙুল চেটে খাওয়াকে অভদ্রতা ও অমার্জিত মনে করে। এসব জ্ঞানপাপী মুসলিম সমাজকে অপসংস্কৃতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ নবীজি (সা.) খাবার গ্রহণকালে স্বীয় আঙুল ও প্লেট চেটে খেতেন। এ চেটে খাওয়ার মধ্যে বরকত নিহিত রয়েছে। চেটে খাওয়া ইসলামি শরিয়তে সুন্নত। কোনো মোমিন এ সুুন্নতকে উপেক্ষা করতে পারে না। হাদিসে রয়েছে, রাসুল (সা.) আঙুলগুলো ও খাদ্যপাত্র খাওয়া শেষে চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, তোমরা জান না যে, কোন আঙুল বা কোন কোন লোকমায় বরকত নিহিত রয়েছে।  (মুসলিম : ৫৪২০)।  

 


আল্লাহর ভয় এবং এর প্রভাব
এ জন্য দরকার হৃদয়কে আল্লাহর ভালোবাসায় গড়ে তোলা। আল্লাহর উলুহিয়্যাহ
বিস্তারিত
বৈষম্যহীনতা ইসলামের সৌন্দর্য
বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান মোটিভেশনার বক্তার একটি ছবি সম্প্রতি ফেইসবুকে ভাইরাল
বিস্তারিত
ভালোবাসা আছে দিবস নেই
প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতা ও ভক্তি-শ্রদ্ধা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। এসব মানবিক গুণ
বিস্তারিত
আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ও
শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা আলোকপ্রাপ্ত বিবেক ও বুদ্ধির কাজ।
বিস্তারিত
কবি সাহাবি আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা
আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা.) এর উপনাম আবু মুহাম্মদ, আবু রাওয়াহা।
বিস্তারিত
সম্পর্ক আবেগ নয় বিবেক দিয়ে
সৃষ্টিলগ্ন থেকেই পুরুষ নারীর প্রতি আকর্ষিত। এ আকর্ষণের অন্যতম অনুঘটক
বিস্তারিত