একজন রক্তের ফেরিওয়ালা

‘২০১৬ সালের জুন মাসে ফেইসবুক মারফত জানতে পারলাম চট্টগ্রামের বিশিষ্ট আলেম ও লেখক মাওলানা লিসানুল হক শাহরুমীর স্ত্রী রক্তের অভাবে ইন্তেকাল করেছেন। মাত্র ৫ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন ছিল তার। কিন্তু ১ ব্যাগ রক্তও জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বাহ্যত সময়মতো রক্ত সরবরাহ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ঘটনা শুনে আমি শিউরে উঠি। প্রচ- ধাক্কা লাগে হৃদয়ে। তখন থেকেই মূলত রক্ত ডোনেশন চিন্তা মাথায় আসে এবং ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়।’ শুরুর গল্পটি বলতে গিয়ে এভাবেই স্মৃতিচারণ করেন খিদমাহর প্রতিষ্ঠাতা।
‘সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টার সন্তুষ্টি’ এ আহ্বানকে সামনে রেখে ‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক’ এর আত্মপ্রকাশ। ৮-১০ জন ব্লাড ডোনার নিয়ে সংগঠনটি শুরু করেন আবদুর রহমান কফিল। যিনি সুনামগঞ্জের ভাটিবাংলার কিংবদন্তি আলেম আল্লামা শায়খ গোলাম নবী (নয়া হুজুর) (রহ.) এর সুযোগ্য পুত্র। একাধারে তিনি আলেম, মুহাদ্দিস, সাহিত্যিক ও সমাজসেবী। বর্তমানে সিলেটের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাজুল হিদায়া সিলেটের শিক্ষা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। গরিব, অসহায় এবং মুমূর্ষু মানুষের কল্যাণে তার কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো। শুরুতে শুধু রক্তদান করলেও ক্রমেই সংগঠনটির কর্মকা-ের পরিধি বাড়তে থাকে। রক্তের অভাবে অকালে যেন কারও প্রাণ ঝরে না যায়, তাই জনসচেতনতার লক্ষে রক্তদানে উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পিং করে যাচ্ছে সংগঠনটি। গেল ৩ বছরে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ হাজার রোগীকে রক্তদান করেছে সংগঠনটি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান কফিল জানান, গরিব-অসহায়, মুমূর্ষু এবং সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ নিয়ে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক। বর্তমানে সারাদেশে এর ১৩টি শাখা রয়েছে। সংগঠনের বর্তমানে রক্তদাতা সদস্য প্রায় ২ হাজার। সিলেটসহ দেশের যে কোনো স্থানে কোনো অসুস্থ রোগীর জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে ছুটে যান এ সংগঠনের সদস্যরা। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে বিভিন্ন শ্রেণির রোগীকে ৪০-৪৫ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করেন তারা। এভাবে গেল ৩ বছরে অন্তত ১ হাজার ব্যাগ রক্ত দিয়েছে সংগঠনটি। রক্ত পেয়েছেন গর্ভবতী মা, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগী, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী, দুর্ঘটনার শিকার বিভিন্নজন।
খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের কর্মপদ্ধতি জানতে চাইলে আবদুর রহমান কফিল জানান, আমিসহ আমাদের প্রায় প্রত্যেক সদস্যই কর্মজীবী। এর মধ্যে অধিকাংশ সদস্য মাদ্রাসা বা স্কুল-কলেজের ছাত্র। এ ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপদ্ধতি হলো, রক্তের গ্রুপ হিসাবে সদস্যদের তালিকা আমাদের হাতে থাকে। কে কবে রক্ত দিয়েছেন তাও লিস্ট আছে। আমাদের সব শাখায় দায়িত্বশীল ব্যক্তি নির্দিষ্ট করা আছে। দায়িত্বশীলদের কাছে রক্তের জন্য ফোন এলে তালিকা দেখে যাদের রক্তদানের সময় হয়েছে তাদের ফোন করা হয়। সময়-সুযোগমতো তাদের দায়িত্বশীলরা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং খেদমতটুকু করে আসেন।
কাজের বিবরণ ও পরিধি কতটুকু জানতে চাইলে খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল জানান, আমাদের পরিধি খুব বেশি বড় না হলেও একদম ছোট নয়। সিলেটের প্রধান শাখা ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও ১২টি শাখা রয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি শাখা প্রক্রিয়াধীন আছে। এখনও আমরা চাহিদামতো সেবা দিতে পারছি না। আমাদের সদস্যদের তুলনায় চাহিদা সবসময় অনেক বেশি থাকে। সব শাখা মিলে প্রতি মাসে গড়ে ৪০-৪৫ জনকে সেবা দেওয়া হয়। মূলত আমরা এখন রক্তদানের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরির বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সবাই যদি আমরা সচেতন হই, তাহলে দেখা যাবে নিজেদের প্রয়োজন পরিমাণ রক্ত আমরা নিজেদের থেকেই সংগ্রহ করতে পারছি। এ জন্য আমরা বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করে থাকি। সেখানে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করি। এর দ্বারা আমাদের সদস্য সংগ্রহের কাজটিও সহজ হয়ে যায়। এর ভালো ফলাফলও আমরা লক্ষ করছি। জানা যায়, খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো দেশের প্রত্যেক জেলায় জেলায় মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো। দেশের কোনো মানুষই যেন রক্তের অভাবে মারা না যায় তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক মাত্র ১০ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। দেশে মানুষ আছেন ১৮ কোটি। ছোট্ট, বয়স্ক এবং অসুস্থ যদি ১০ কোটি মানুষও হয়, তাহলে সুস্থ মানুষ আছেন ৮ কোটি। একজন মানুষ প্রতি বছর ৩ বার রক্ত দিতে পারেন। সে হিসাবে মাত্র ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষও যদি স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য তৈরি হয়, তাহলে রক্তের অভাব থাকার কথা নয়।
তাই আসুন! নিজে রক্তদান করি এবং অন্যকে রক্তদানে উৎসাহিত করি। রক্তের অভাবে যেন আর কোনো জীবন ঝরে না যায় সে জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। মানবতার সেবায় নিজে এগিয়ে আসি এবং অন্যকেও আসতে উৎসাহিত করি। কেননা, আপনি, আমি এবং আমরা জাগলেই জাগবে বাংলাদেশ।


কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত
তুর্কি অভিযান কেন?
  কুর্দি মিলিশিয়াদের হটিয়ে ‘সেইফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করার
বিস্তারিত
আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে
  ইসরাইলের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে শিগগিরই ইহুদিদের
বিস্তারিত
ইসলামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হাফেজ এটিএম
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে জানাজার বিশাল সমাবেশ প্রমাণ
বিস্তারিত
প্রসঙ্গ র‌্যাগিং, আপনিও কি একজন
মূলত র‌্যাগিং একরকম নবীনবরণের অর্থ বোঝালেও আদতে তা নবীন শিক্ষার্থীদের
বিস্তারিত