মাদক সর্বনাশা

মদ একটি নেশাজাত দ্রব্য। আর এ ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই যে, নেশা হচ্ছে ধ্বংসাত্মক একটি বদ অভ্যাস। আগের দিন কোনো এক রোগবালাইয়ের প্রকোপে লোকালয়ের পর লোকালয় উজাড় হয়ে যাওয়ার কথা আমরা মুরব্বিদের কাছে শুনে থাকি। কিন্তু খোদা প্রদত্ত কোনো কঠিন রোগ নয়, আমাদের লোকালয়ে বহু প্রাণহানি ঘটছে শুধু এই প্রাণঘাতী মদ্যপানের বদ অভ্যাসের কারণে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলেছে, শুধু বাংলাদেশে ২০১৬ সালে মদপানজনিত কারণে ৩ হাজার ৩৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। (প্রথম আলো, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮)। এর মধ্যে ২ হাজার ২০৯ জনই মারা গেছেন মদের প্রভাবে লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়। সুতরাং কোনো সন্দেহ নেই, মদপানের কারণে মদ্যপায়ী তার চূড়ান্ত ধ্বংস তথা মৃত্যু ডেকে আনে। অথচ আল্লাহ তায়ালা কোরআনে এরশাদ করেন, ‘তোমরা নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।’ (সূরা বাকারা : ১৯৫)।
আল্লাহ আমাদের জীবন দিয়েছেন, অসংখ্য নেয়ামত দিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটিইÑ নেয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ আল্লাহর ঐকান্তিক আনুগত্য প্রদর্শন ও ইবাদত করা। এরশাদ হয়েছে, ‘আমি জিন এবং মানুষ সৃষ্টি করেছি শুধু আমার ইবাদতের জন্য।’ (সূরা জারিয়াত : ৫৬)। আরও এরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতগুলো গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অতিশয় দয়ালু।’ (সূরা নাহল : ১৮)। সুতরাং আল্লাহর দেওয়া আমাদের প্রাণ ও আল্লাহর অগুনতি নেয়ামত ভোগ করে মদপানের মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করে দিলে তা দয়াময় প্রভুর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশও হলো না; অধিকন্তু আল্লাহর ফরমানের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেকে পরকালে চূড়ান্ত শাস্তির উপযুক্ত করে তোলা হবে। তা ছাড়া মদপানের কারণে শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি কিংবা মৃত্যুই শেষ কথা নয়। বরং মৃত্যু না হলেও যেসব মদ্যপায়ী কোনোরকমে বেঁচে থাকে, তাদের কারণে সমাজেও ব্যাপক খারাপ প্রভাব পড়ে। মদপানে সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পাওয়ায় মদ্যপায়ীর সামনে রকমারি পাপাচারের দ্বার উন্মোচিত হয়। জঘন্য থেকে জঘন্য অপরাধ সংঘটনে সে পিছপা হয় না। সমাজেও যার প্রভাব পড়ে অবধারিতভাবে। 
পশ্চিমা দেশগুলোতে মদপানের ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতি তুলনামূলক বেশি। তাই এর কুফলও সেখানেই সবচেয়ে বেশি। গবেষণা বলছে, ইউরোপ-আমেরিকায় পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন এবং শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। যার ফলে সেখানে ব্যভিচার, অবৈধ নারী-পুরুষের প্রণয় এবং জুয়াসহ অনৈতিক কার্যকলাপ বেশি। সমকামিতার মতো জঘন্য নোংরা সংস্কৃতির প্রাদুর্ভাব যদিও আল্লাহর নবী লুত (আ.) এর সময় তার কিছু বিপথগামী উম্মতের হাত ধরে ঘটে। কিন্তু আধুনিককালের সমকামিতার নোংরামির সূচনা হয় পাশ্চাত্য থেকে। এসবের নেপথ্য কারণ হিসেবে রয়েছে মদ। কারণ মদপানে মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পশুতে পরিণত হয়। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারক তিরগুলো এসব অপবিত্র শয়তানি কাজ। সুতরাং তোমরা এসব থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।’ (সূরা মায়েদা : ৯০)।
ওপরের আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা কয়েকটি বিষয়ের সঙ্গে মদকেও নাপাক ও শয়তানের কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আর শয়তান মানুষকে সন্দেহাতীতভাবে কখনও ভালো কিছুর দিকে আহ্বান করতে পারে না। কেননা সে আমাদের শত্রু। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সূরা বাকারা : ২০৮)। আল্লাহ এই সর্বনাশা পানীয় বস্তু থেকে আমাদের স্বাস্থ্য, তরুণসমাজ ও ঈমান-আখলাককে সুরক্ষিত রাখুন। আমিন।


লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া হুসাইনিয়া সিরাজুল উলুম, সাভার, ঢাকা


কে এই নোবেল বিজয়ী আবি
তিনি নিজেও ওরোমো মুসলিম ছিলেন। তার বাবা ছিলেন মুসলিম আর
বিস্তারিত
মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা
  ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম মুসলমান
বিস্তারিত
তুর্কি অভিযান কেন?
  কুর্দি মিলিশিয়াদের হটিয়ে ‘সেইফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করার
বিস্তারিত
আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে
  ইসরাইলের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে শিগগিরই ইহুদিদের
বিস্তারিত
ইসলামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হাফেজ এটিএম
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে জানাজার বিশাল সমাবেশ প্রমাণ
বিস্তারিত
প্রসঙ্গ র‌্যাগিং, আপনিও কি একজন
মূলত র‌্যাগিং একরকম নবীনবরণের অর্থ বোঝালেও আদতে তা নবীন শিক্ষার্থীদের
বিস্তারিত