৭৬ বছরেও নাগরিকত্ব পেলেন না বৃদ্ধা ছকিনা

ঘর-বাড়ি নেই, নেই কোনো স্থায়ী ঠিকানা। এ দেশেই জন্ম  নিলেও সে ভোটার নন। জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই ৭৬ বছরের ছকিনা বেওয়ার। ‘নাগরিকত্বহীন এই বৃদ্ধা সরকারী সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পরন্ত বয়সে ভিক্ষা করেই তার জীবন চলছে। আপনজন বলতেও কেউ নেই। অন্যের বাড়িতে কাটে তার রাত।  

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় স্বাধীনতার প্রায় ৪৭ বছরেও জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি ছকিনা বেওয়া। ফলে তার ভাগ্যে জোটে না সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা। আজন্ম ভিক্ষা করে নিজ দেশে পরবাসীর মতো জীবন কাটে তার। এলাকার মানুষ তাইজলের মা হিসেবেই তাকে চেনেন।

বয়সের ভারে চোখের দৃষ্টি অস্পষ্ট; কানেও শোনেন কম। তবু পেটের দায়ে অন্যের বাড়ি বাড়ি ঘুরে খাবার জোগাড় করতে হয়। তাই যেখানে রাত সেখানেই পরবাস করেন। মৃত্যুর পর কবরের ঠিকানাও অনিশ্চিত। ছকিনার আক্ষেপ, ‘মোর ভোট নেয় না, মোক ইলিপ (রিলিফ) দেয় না, মোর কী হইবে? মুই কতজনক ভিক্ষা দিছোং, এখন মুই ভিক্ষা করং বাহে। মোর দিকি কেউ চোখ তুলি দ্যাহে না বাপ।’

জানা গেছে, ছকিনা বেওয়া কিছুদিন ধরে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের পাতিলাপুর গ্রামের হতদরিদ্র ছাইফুলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার বাবার বাড়ি গোড়াই পিয়ার গ্রামে। বাবা দুখু মিয়া তার বিয়ে দেন দলদলিয়া ঘাটিয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক দবির উদ্দিনের সঙ্গে। সংসারে আসে মানসিক ভারসাম্যহীন পুত্র সন্তান তাইজুল। সে-ও মারা যায় এক সময়। একে একে সব হারান এই বৃদ্ধা। পেটের দায়ে ভিক্ষায় নামেন। দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে যেখানে রাত হয় সেখানেই আশ্রয় নেন। এভাবেই কাটে স্বজনহারা ছকিনার পরবাস জীবন। এখন আর শরীর চলে না, হাঁটতেও পারেন না। এর-ওর কাছ থেকে খাবার চেয়ে নিয়ে পেট চালান। কারো দয়া হলে খাবার দিয়ে যান। কিন্তু থেতরাই ইউপি অফিসে গিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের হাত-পা ধরেও রিলিফ পাননি। কেননা তিনি ভোটার ও নাগরিক নন।
এ বিষয়ে থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আব্দুল ওহাব খোকা বলেন, ‘ছকিনা বেওয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। আর এটি করতে লাগে জন্ম নিবন্ধন। সে ব্যবস্থার চেষ্টা করছি।’ ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, ‘ছকিনা বেওয়ার ব্যাপারে আমি আগে জানতাম না। এই বৃদ্ধা আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা কিনা, সে বিষয়ও অবগত ছিলাম না।’ এখন সব কিছু জানার পর এ বিষয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছকিনা বেওয়ার নাগরিকত্ব দিয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করার আশ্বাস প্রদান করেন।


পাহাড়খেকোদের আস্তানায় এসিল্যান্ডের অভিযান, এস্কেভেটর
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে প্রভাবশালী পাহাড়খেকোদের আস্তানায়
বিস্তারিত
ভিসি-রেজিস্ট্রারকে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক থাকার দাবি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভিসি এবং রেজিস্ট্রারকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে উপস্থিত
বিস্তারিত
চাঁদপুরে সরকারি ঘর পেয়েছে গৃহহীন
'দেশের একটি লোকও গৃহহীন থাকবে না' প্রধানমন্ত্রীর এই শ্লোগানকে সফল
বিস্তারিত
উচ্চ ফলনশীল জাত 'বিনা ধান-২২'
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটস (বিনা) উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকালীন উচ্চ
বিস্তারিত
টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারার দ্বিতীয় দিনেও
টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকায় তিন দিনের ১৪৪ ধারার দ্বিতীয় দিন
বিস্তারিত
ভাঙ্গায় বিয়ের প্রলোভনে দশম শ্রেণির
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের মানিকদহ গ্রামে দশম শ্রেণির এক
বিস্তারিত