জুলুমবাজ ও হত্যাকারীর পরিণতি

বর্তমানে চারদিকে একটি দৃশ্য ফুটে উঠছে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার। তবে জুলুমকারী যে ধর্মের বা যেই হোক না কেন আল্লাহর হাত থেকে সে রেহাই পাবে না। যদিও জুলুমকারী বা অত্যাচারী কিছুকালের জন্য নিজেকে ক্ষমতাবান বা বড় শক্তিশালী কিছু ভেবে থাকে। মূলত সে বোকার স্বর্গে বাস করে। কারণ এ দুনিয়ায় কারও ক্ষমতাই দীর্ঘস্থায়ী নয়। 
জুলুম করে হত্যা করা নিয়ে আল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেরা নিজেকে হত্যা কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়ালু। তার পরও যে আত্মহত্যা করল সে সীমা লঙ্ঘন ও জুলুম করল, অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দেব।’ (সূরা নিসা : ৩০)। 
অত্যাচারী যখন দুর্বলের প্রতি তার অত্যাচার চালায় তখন তার মনে হয় সেই বুঝি অনেক ক্ষমতাবান। তার শক্তি ও ক্ষমতা বুঝি চিরস্থায়ী। কিন্তু সে ভুলে যায়, ওই অসহায় লোকটির পক্ষে কেউ না থাকলেও আল্লাহ সবই দেখেন এবং হিসাব রাখেন। মানুষের ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘আর জমিনে বড়াই করে চলো না; তুমি তো কখনও জমিনে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনও পাহাড় সমান পৌঁছতে পারবে না।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৭)। 
অত্যাচারী বা জালেম যতই শক্তিশালী হোক না কেন তার পরাজয় নিশ্চিত। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব জালেম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হলো।’ (সূরা আল-আনআম : ৪৫)। 
দেশে বা সমাজে অত্যাচারীদের কর্তৃত্ব চললে সে দেশ বা সমাজের ওপর থেকে আল্লাহর রহমত চলে যায়। সেই দেশের আর উন্নতি হয় না। বস্তুত উন্নতির নামে যা দেখা যায় তা শুধু মরীচিকা। 
জুলুমের কারণে জাতির সফলতা আসে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় জালেমরা সফলকাম হয় না।’ (সূরা আনআম : ২১)। অনুরূপভাবে আরও এসেছে, ‘আর চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে সবাই অবনত হবে। আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে যে জুলম বহন করবে।’ (সূরা ত্বা-হা : ১১১)।
সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন জুলুম চলতে তাকে তখন আল্লাহর নেয়ামত কমে যায়। এ ব্যাপারে আরেকটি আয়াত হচ্ছে, ‘সুতরাং ইহুদিদের জুলমের কারণে আমি তাদের ওপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে অনেককে তাদের বাধা প্রদানের কারণে।’ (সূরা আন-নিসা : ১৬)।
অত্যাচারীদের ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতার উল্লেখ করতে গিয়ে নবীজি বলেছেন, ‘আল্লাহ জালেমকে অবকাশ দেন। অবশেষে যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন তার পলায়নের অবকাশ থাকে না।’ (বোখারি : ৪৬৮৬)।
তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, এই জুলুমবাজদের কাজের আজাব শুধু তারা নয়, সবাইকেই বহন করতে হয়। অত্যাচারীরা যখন দুর্বলের ওপর অত্যাচার চালায় তখন অনেকেই প্রতিবাদ না করে মুখ লুকিয়ে থাকে বা অত্যাচারীর সঙ্গ দেয়। 
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা ভয় কর ফেতনাকে যা তোমাদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে শুধু জালেমদের ওপরই আপতিত হবে না। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ আজাব প্রদানে কঠোর।’ (সূরা আনফাল : ২৫)।
মূলত এই আজাব হচ্ছে জুলুমকারীদের কাজের দুনিয়াবি শাস্তি। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যে উপদেশ তাদের দেওয়া হয়েছিল, যখন তারা তা ভুলে গেল তখন আমি মুক্তি দিলাম তাদের যারা মন্দ হতে নিষেধ করে। আর যারা জুলম করেছে তাদের কঠিন আজাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। কারণ তারা পাপাচার করত।’ (সূরা আল-আ’রাফ : ১৬৫)।
আল্লাহ আরও বলেন, ‘অতঃপর তোমরা যা বল তারা তা মিথ্যা বলেছে। অতএব তোমরা আজাব ফেরাতে পারবে না এবং কোনো সাহায্যও করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে জুলম করবে তাকে আমি মহা আজাব আস্বাদন করাব।’ (সূরা আল-ফুরকান : ১৯)।
জালেমদের জন্য দুনিয়াতে যেমন বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি মৃত্যুর পর তাদের ভয়নাক পরিণতি হবে। আল্লাহ তায়ালা জালেমদের আখেরাতে ভয়ানক শাস্তি দেবেন। সূরা বুরুজের ১০নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় যারা মোমিন পুরুষ ও মোমিন নারীদের নির্যাতন করে, তারপর তওবা করে না, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব। আর তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আজাব।’
জুলুম করে সাময়িক রাজত্ব করে কোনো প্রাচুর্য বা কোনো উন্নতি হলেও জালেমের মতো হতভাগা আর কেউ নেই। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা কি জান গরিব কে? সাহাবিরা বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নেই সে হলো গরিব লোক। তখন তিনি বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সে হলো গরিব যে কেয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে আসবে; অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের মাল খেয়েছে, সে লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই এসব নির্যাতিত ব্যক্তিদের সেদিন তার নেক আমলনামা দিয়ে দেওয়া হবে। এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (তিরমিজি : ২৪১৮)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা গেল, অত্যাচারী আর জুলুমকারী যদি মুসলমান গোত্রেরও হয় তার রক্ষা নেই। আর যে ইহুদিদের দ্বারা মুসমান আক্রান্ত হচ্ছে আল্লাহ তাদের জন্য ভয়ঙ্কর আজাব ও শাস্তি রেখেছেন। আল্লাহ যেন মিয়ানমারের জুলুমবাজদের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেন এই কামনা করি।  


আজানের মহিমা
সর্বোপরি আজান হচ্ছে নামাজের আহ্বান। আর নামাজের গুরুত্ব যে সর্বাধিক,
বিস্তারিত
আল-মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ মক্কা মোকাররমা
  আল-মাদ্রাসাতুস সাওলাতিয়াহ। পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত আরব উপদ্বীপের প্রাচীনতম দ্বীনি
বিস্তারিত
একদিন নবীজির বাড়িতে
ধৈর্য ও সহনশীলতা : নবীজির (সা.) বাড়িতে শুধু শান্তি আর
বিস্তারিত
ফুটপাতে ক্রয়-বিক্রয় প্রসঙ্গে
  প্রশ্ন : আমি ফুটপাতের দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করি।
বিস্তারিত
২৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন
আসছে ২৯ নভেম্বর শুক্রবার বাদ আসর বাংলাদেশ কারি সমিতির উদ্যোগে
বিস্তারিত
সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা
ইসলাম অতীত ক্ষমা করে দিয়েছে। কারণ ইসলাম পূর্বকৃত সব গোনাহ
বিস্তারিত