বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখার ফজিলত ফিরোজ আহমাদ

 

আল্লাহ আমাদের রিজিক দাতা। তিনি আমাদের দুনিয়ায় পাঠানোর আগে রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আমাদের রিজিক বাড়ানো কিংবা কমানোর ক্ষমতা শুধু আল্লাহ তায়ালার রয়েছে। আল্লাহ তায়ালার দেওয়া নেয়ামত খাদ্যসামগ্রী গুদামজাত করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া মোনাফেকদের কাজ। অতি মুনাফার লোভে বাজারে সরবারহ বন্ধ করে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার ফলে গোনাহগার হতে হবে। প্রয়োজনের অধিক গুদামজাতকরণের ফলে মানুষের রিজিক সংকুচিত হয়ে পড়ে। মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।
আল্লাহর সৃষ্টি মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখলে ব্যবসা তখন দৈনন্দিন ইবাদতের অংশে পরিণত হয়ে যায়। কোনো একজন ব্যবসায়ীর সরবরাহকৃত পণ্য ন্যায্যমূল্যে খরিদ করে, পরিধান করে কিংবা খেয়ে যদি কোনো ব্যক্তি আমল-ইবাদত করে, ওই ব্যক্তির আমলের ফজিলতের একটি অংশ বাজারে পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসায়ী পাবেন। কারণ ওই ব্যবসায়ীর বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখার পেছনে আল্লাহর সৃষ্টির মানুষের খেদমত করার উদ্দেশ্যে ছিল।
বাজারে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ অব্যাহত রাখা একটি উত্তম ইবাদত। অন্যদিকে খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করা একটি গোনাহের কাজ। রাসুল (সা.) এর মতেÑ যারা মানুষের রিজিক সংকুচিত করার মতো ঘৃণ্য কাজ করে তারা অভিশপ্ত। হজরত মামার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেনÑ ‘যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে, সে গুরুতর অপরাধী। খাদ্যদব্য গুদামজাতকারী গোনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবে।’ (মুসলিম)। হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেনÑ ‘আমদানিকারক মুনাফা অর্জন করবে। পক্ষান্তরে গুদামজাতকারী অভিশপ্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, দারেমী)।
একজন মোমিন ব্যক্তি অপর মোমিন ব্যক্তির ভাই ও বন্ধু। এক ভাই অপর ভাইকে ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট দিলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব-গজব নেমে আসবে। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেনÑ ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের ওপর অভাব-অভিযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে খাদ্যবস্তু গুদামজাত করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে দরিদ্রতা এবং কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।’ (ইবনে মাজাহ, বায়হাকী, শোয়াবুল ঈমান)। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেনÑ ‘যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে রাখবে, সে তার মাল দান করে দিলেও তার গোনাহ ক্ষমার জন্য যথেষ্ট হবে না।’ (রাযীন)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেনÑ কোনো বান্দা হারাম পন্থায় উপার্জিত অর্থ দানখয়রাত করলে তা কবুল হবে না এবং নিজ কাজে ব্যয় করলে তাতে বরকত হবে না। আর এরূপ অর্থ তার ওয়ারিশদের জন্য রেখে গেলে তা তার জন্য দোজখের মূলধন হবে। (আহমদ, শরহে সুন্নাহ)। 
যেসব ব্যবসায়ী মানুষকে কষ্ট দেয় না, তারা মোমিনের দলভুক্ত। কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘এরা এমন লোক (মোমিন ব্যবসায়ী), যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর শরণ থেকে বিরত রাখে না, সালাত কায়েম করা থেকে এবং জাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিগুলো উল্টে যাবে। পরিণামে তাদের সৎকাজের জন্য আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন।’ (সূরা নুর : ৩৭-৩৮)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেনÑ ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক এবং শহীদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি)। 
সুতরাং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার উদ্দেশ্যে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখলে ব্যবসায় বকরত বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করবেন। 


শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত
নবীজির হজের একঝলক
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্মাণ
বিস্তারিত
তাবলিগ ও ইজতেমা
আরবি ‘ইস্তেমা’ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে শ্রবণ-শোনা, মনোযোগসহ শ্রবণ। আর ‘ইজতেমা’
বিস্তারিত
ইসলামের স্বার্থে ঐক্য জরুরি
মাহফিল অর্থ মিলন মেলা, মিলনায়তন; আর ওয়াজ অর্থ উপদেশ, নসিহত,
বিস্তারিত