প্রাত্যহিক জীবনে ধৈর্য ও স্থিরতার গুরুত্ব

 

ধৈর্য ব্যক্তিজীবনকে সম্মানের শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ধৈর্য মানব জাতির আত্মোন্নয়নের অনন্য পাথেয়। ধৈর্য বড় তিক্ত হলেও কিন্তু তার ফল মধুর। অনেক নবী-রাসুল দুনিয়ার জীবনে বড় বড় কষ্ট নীরবে সহ্য করে গেছেন। হজরত আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর পর্যন্ত কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। তিনি এ রোগ থেকে সুস্থতার জন্য একবারও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেননি। একইভাবে হজরত ইবরাহিম (আ.) কে অভিশপ্ত নমরুদ অগ্নিকু-ে নিক্ষেপ্ত করেছিল। কিন্তু হজরত ইবরাহিম (আ.) নমরুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে হাতে তোলেননি। আখেরি নবী হজরত  মোহাম্মদ (সা.) জীবনের শুরু থেকেই কাফেরদের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু শত্রুর প্রতি প্রতিশোধ নেননি, বরং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। তাদের এ দুঃখ-কষ্টের সঙ্গী ছিলেন একমাত্র মহান আল্লাহ। প্রতিটি মুহূর্তে তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছেন। সুতরাং মুসলিম উম্মাহকে প্রতিটি কাজে ধৈর্যের সঙ্গে সফলতাকে খুঁজে নিতে হবে। আর এটাই হলো ইসলামের অনুপম আদর্শ। অধৈর্য মানব সমাজে হানাহানি সৃষ্টি করে এবং বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়। কিছু লোক ধৈর্য বিচ্যুত হয়ে অনৈতিকতার আশ্রয় নেয়। অথচ অনৈতিকতা মানব সমাজে অসভ্যতা ডেকে আনে। তাই কোনো অবস্থাতেই মোমিনদের ধৈর্যহারা হওয়া উচিত হবে না। সবসময় ধৈর্যকে বুকে ধারণ করে পার্থিব জীবনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।  
কোরআনে ধৈর্যের মাহাত্ম্য : কাজকর্মে সহনশীল বা ধৈর্যশীল হওয়া উচিত। ধৈর্যের ফল মিষ্টান্ন। অধৈর্যশীল ব্যক্তি জীবনে সুখী হতে পারে না। যারা ধৈর্য ধারণ করতে অক্ষম তারা প্রকৃতপক্ষে ভীরু ও কাপুরুষ। মানব জাতিকে জীবনের সর্বস্তরে উন্নতি সাধন করতে হলে অবশ্যই ধৈর্যের গুণ গ্রহণ করতে হবে। কারণ, মানুষের গুণাবলির মধ্যে ধৈর্য-সহিষ্ণুতা সর্বোৎকৃষ্ট গুণ। বিপদ-আপদে অধৈর্য হলে বিপদ কাটে না, বরং ক্ষুদ্র বিপদটি সমূহ বিপদে পরিণত হয়। তাই সর্বকাজের সফলতার জন্য ধৈর্য অবলম্বন করা মানব জাতির জন্য খুবই প্রয়োজন। ধৈর্যের আড়ালেই মানুষের অসীম সুখ ও শান্তি নিহিত। আর আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা অভাবে ও ক্লেশে এবং যুদ্ধকালে ধৈর্যশীল তারাই সত্যপরায়ণ এবং তারাই ধর্মভীরু। (সূরা বাকারা : ১৭৭)। 
কাজে তাড়াহুড়া উচিত নয় : অনেকে কাজের ধীরস্থিরতাকে পছন্দ করে না। তাড়াহুড়াকে কাজের মূল চালিকাশক্তি মনে করে। অথচ ধীরে কাজ করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং এতে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়। কারণ, ইসলাম ধর্ম কাজে ধীরস্থিরতা অবলম্বনের শিক্ষা দিয়েছে। আর তাড়াহুড়াকে শয়তানের কর্ম হিসেবে অবহিত করেছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ধীরস্থিরতা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হয়, আর তাড়াহুড়া শয়তানের পক্ষ থেকে। (তিরমিজি : ২১৪৪)। আরও বলেন, প্রত্যেক কাজই ধীরে করার মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। তবে আখেরাতের আমল এর ব্যতিক্রম। (আবু দাউদ : ৪৮১২)।  
কাজে সুচিন্তা অবলম্বন : কাজের সফলতা লাভের আরেকটি উপায় হলো কর্মে চিন্তাশীল হওয়া। ভাবনাহীন কাজ কারও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। কর্মের সুফল পেতে হলে কর্মকারীকে অবশ্য কাজ নিয়ে ভাবতে হবে এবং ভালো-মন্দ উভয় দিক বিবেচনা করতে হবে। কারণ, পরিকল্পনাহীন কাজ মানব জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে। এমনকি এতে নিজের সম্পদ, পরিশ্রম ও সময়ের সিংহভাগ অপচয়ই হয়। তাই প্রতিটি কাজের সফলতার পূর্বশর্ত হচ্ছে পূর্বপরিকল্পনা। আগে চিন্তাভাবনা করতে হবে, অতঃপর কাজ সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে এটাই নবীজি (সা.) এর সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.) কে বলল, আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি বললেন, চিন্তাভাবনা করে কোনো কাজ কর। যদি তার পরিণাম উত্তম বলে বিবেচিত হয়, তবে তা সম্পাদন কর। আর যদি মন্দের আশঙ্কা থাকে তখন তা থেকে বিরত থাক। (শরহে সুন্নাহ)।

লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম 


শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত
নবীজির হজের একঝলক
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্মাণ
বিস্তারিত
তাবলিগ ও ইজতেমা
আরবি ‘ইস্তেমা’ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে শ্রবণ-শোনা, মনোযোগসহ শ্রবণ। আর ‘ইজতেমা’
বিস্তারিত
ইসলামের স্বার্থে ঐক্য জরুরি
মাহফিল অর্থ মিলন মেলা, মিলনায়তন; আর ওয়াজ অর্থ উপদেশ, নসিহত,
বিস্তারিত