ইউঘুর মুসলিম ২৬ নভেম্বর নিউ অ্যারাবে প্রকাশিত ইমাদ হাজ্জাজের ক্যারিকেচার

চীনে মুসলিম নির্যাতনের গোপন নথি ফাঁস!

 

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নথিতে গণচীনে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন সম্পর্কে বেরিয়ে এসেছে নানা রকম চাঞ্চল্যকর তথ্য। জিনজিয়াং, উইঘুর, কাজাখসহ বেশ কিছু অঞ্চলে লাখ লাখ মুসলিমকে নির্যাতনের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে এ নথিতে। ৪০৩ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট এ বিশাল নথিতে জানা যায় কীভাবে দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সবাই এ নির্যাতনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। স্বয়ং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংও পরোক্ষভাবে এটির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে জানা যায়। দেখা যাচ্ছে, নানা রকম চাকরির ট্রেনিংসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা বলে মুসলিম তরুণদের পরিবার থেকে বের করে আনলেও শেষমেশ অবরুদ্ধ করে তাদের ওপর চালানো হচ্ছে অকথ্য নির্যাতন।
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের অপ্রকাশিত বক্তব্য, বিভিন্ন নির্দেশনা, উইঘুরদের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এ উদ্ধারকৃত নথিতে। তবে অন্যদিকে খোদ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরেও মুসলমানদের ওপর চালানো দমনমূলক আচরণ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। টাইমস বলছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির এমনই একজন রাজনৈতিক সদস্য এসব নথি ফাঁস করেছেন। তিনি আশা করেন, এর ফলে মুসলমানদের অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য স্বয়ং শি জিনপিংসহ চীনের নেতৃবৃন্দ বিশ্বের মানুষের নিন্দা থেকে রেহাই পাবে না। এদিকে বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে নিন্দার ঝড়ও উঠেছে।
নথিতে ফাঁস হওয়া প্রধান দিকগুলো নিম্নরূপ
চাকরির প্রশিক্ষণ : নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এ নথি অনুযায়ী, চীনা সরকার জিনজিংসহ নানা প্রদেশ থেকে ক্ষুদ্র মুসলিম নৃগোষ্ঠীকে চাকরির প্রশিক্ষণ প্রদানের কথা বলে একত্র করে থাকে। বড় কোনো ক্যাম্পে নিয়ে তাদের চাকরির ট্রেনিং দেওয়া হবেÑ এমন কথা জানানো হয় তাদের পরিবারকে। এ প্রক্রিয়ায়ই মুসলিমদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এসবের পরও চীন সরকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মারফত জানায়, কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি জনগণের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত জনগণের। কেননা, পার্টি তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছে। যদি তারা এর ব্যতিক্রম করে তাহলে তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।
সন্ত্রাস দমন : নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় শি জিনপিং ‘সন্ত্রাসী, অনুপ্রবেশকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ স্বৈরতান্ত্রিক সব উপায়ে দমনের নির্দেশ দেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তাদের প্রতি যেন কোনো ধরনের ক্ষমা প্রদর্শন না করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের একটি রেলস্টেশনে উইঘুরদের হামলায় ৩১ জনের মৃত্যুর পর এই বক্তব্য দিয়েছিলেন শি জিনপিং। উল্লিখিত এ হামলায় ১৫০ জনের ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল সে সময়। মূলত এ হামলার পরেই শি জিনপিং একাধিক গোপন বৈঠকের মাধ্যমে মুসলিম নির্যাতনের পরিকল্পনা আঁটেন।
বিদেশি হামলার প্রভাব : নথি অনুযায়ী বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ও যুক্তরাজ্যে সংঘটিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলাও চীনে মুসলিম নির্যাতনে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ৯/১১ এর হামলা উল্লেখযোগ্য। এ হামলার জের ধরেও চীন সরকার মুসলিমদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে থাকে বলে জানা যায়।
উগ্রপন্থি সমাজতান্ত্রিক নেতার ক্ষমতা গ্রহণ : ২০১৬ সালে সিনচিয়াং প্রদেশের দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান চেন কুয়ানগুয়ো নামে এক উগ্রপন্থি নেতা। তিনি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে শুরু করেন। তার সময়ই বাড়তে থাকে মুসলিম বন্দি ক্যাম্পের সংখ্যা। চেন কুয়ানগুয়ো ক্ষমতায় এসেই প্রসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আদর্শ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সেটাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। তিনিই আদেশ দেন, যাদের গ্রেপ্তার করা দরকার তাদের কেউ-ই যেন কোনোভাবে ছাড়া না পায়।
জাতিগত উদ্বেগ : চীনের এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় অনেক নেতাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এ মুসলিম নির্যাতনের কারণে। তবে তাদের বিরুদ্ধেও দেশটি সোচ্চার। কেউ জাতিগত উদ্বেগের কথা ভেবে বন্দিদের মুক্ত করতে চাইলেও সে সুযোগ নেই সে ক্ষেত্রে। কোনো কর্মকর্তা নির্দেশ অমান্য করলে তাকে পড়তে হয় শাস্তির মুখে। এরই শিকার হয়েছেন ওয়াং ইয়ংসি। তিনি জিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে সাত হাজার বন্দিকে নিজ উদ্যোগে মুক্ত করেছিলেন। এ নিয়ে ২০১৭ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলে। এটিরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে সুদীর্ঘ এ নথিতে। অন্যদিকে চীনে উইঘুরদের ওপর চালানো নির্যাতনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে দেশটির সরকার ও প্রশাসন। উইঘুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিমদের আটকে রাখা নয়, বরং ক্যাম্পগুলোতে নিয়ে তাদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেওয়া হয় বলেই দাবি দেশেটির সরকারের। 

হ সূত্র : আলজাজিরা ও নিউইয়র্ক টাইমস


ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে লোকমান
প্রজ্ঞাময় কোরআনের উপদেশগুলোতে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা। রয়েছে মহান আল্লাহর
বিস্তারিত
ইসলামে খাদ্য গ্রহণে পরিমিতিবোধ
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামান্য বেশি খাদ্য গ্রহণও ইসলামে কাম্য নয়। এতে 
বিস্তারিত
বাউল গানের নামে অপব্যাখ্যা কাম্য
যে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে হলে প্রথমে ওই বিষয়ে পরিপূর্ণ
বিস্তারিত
শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত