চির বিদায় প্রিয় সহকর্মী সাংবাদিক হারুন ভাই

প্রাণ সংহারক করোনাভাইরাসের কারণে স্তব্ধ চারিদিক। সেই সময়টাতে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান মিন্টুর ফেসবুকের টাইমলাইনে গতকাল বুধবার রাত পৌনে নয়টায় একটি স্ট্যাটাস দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম, প্রিয় সহকর্মী সাংবাদিক ‘হারুন ভাই নেই’। ওই সময় ময়মনসিংহের গৌরিপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে একজন নিহতের সংবাদটি শেষ করতেই চোখে পড়ে হারুন ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদটি। হ্যা খবরটি সত্য, তবে এমন নির্মম সত্যর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। একজন প্রাণবন্ত মানুষের এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না, মেনে নেয়া যায় না।

মৃত্যু অনিবার্য, অবধারিত, সুনিশ্চিত না হলে জীবনকে মানুষ এত ভালোবাসত না। মৃত্যু থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো পদ্ধতি মানুষের জানা নেই। দুঃখ-দুর্দশা মেনে নিয়েও মানুষ বেঁচে থাকতে চায়। যেকোনো উপায়েই হোক, মানুষ তার পৃথিবীর পাট চুকাবে, এটা নিষ্ঠুরতম সত্য। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু আছে যা মেনে নেওয়া সত্যিই কষ্টকর। তেমনি প্রিয় সহকর্মী সাংবাদিক হারুন অর রশিদের মৃত্যুটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় গফরগাঁও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

তিনি ছিলেন দরদী মনের অধিকারী। তিনি ব্যক্তিগত-মানবিক সম্পর্ক ও সহকর্মীদের সম্মান এবং মর্যাদা দিতেন। দেখা না হলেও ফোন করে খবর নিতেন। দরদী এ মানুষটি প্রায়ই ফোন করে বলতেন আজহার কেমন আছো। আজকে আলোকিত বাংলাদেশে তোমার একটা লেখা পড়লাম। লেখাটা সুন্দর হয়েছে, ভাল লেগেছে। সর্বশেষ ফোন করেছেলিন গত একুশ এপ্রিল। ফোন করেই বলেন আজহার সাবধানে চলাফেরা করো। আর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বের হয়ো না। যাই হোক ‘করোনাকালে চিকিৎসক মা ও তার শিশুসন্তানের কষ্টগাঁথা’ শিরোনামে আলোকিত বাংলাদের অনলাইন সংস্করণে তোমার লেখা প্রতিবেদনটি পড়ে খুব কষ্ট পেয়েছি।

এ কেমন ভাইরাস যা মায়ের কাছ থেকে শিশু সন্তানকে আলাদা করে দেয়। এ ভাইরাসতো সবার মাঝে দেয়াল তুলে দিচ্ছে। এর পর নানা কথা শেষে ফোন রাখার আগে বললেন তুমি যবে থেকে আলোকিত বাংলাদেশে কাজ করছো সেদিন থেকেই আমি এই পত্রিকাটির নিয়মিত পাঠক হয়ে গেছি। আর কেউ নিউজের প্রশংসা করুক বা না করুক, খবর নিক বা না নিক এই একজন ছিলেন প্রিয় সহকর্মী হারুন ভাই। যিনি নিয়মিত আমার নিউজের প্রশংসা করতেন, খবর নিতেন। আজ থেকে প্রশংসা করার আর কেউ রইল না।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটায় গোটা ২৫-৩০ জন মানুষের উপস্থিতিতে ওনার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে সাদা কাফনে মোড়ানো প্রিয় সহকর্মী সাংবাদিক হারুন ভাইয়ের নিথর দেহটা শুইয়ে দিল মাটির ঘর কবরে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী কবরের উপরে ছিটিয়ে দেয়া হলো মাটি। এর আগে বুধবার ইফতারের একঘন্টা পর ঢাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে সামান্য শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

প্রিয় হারুন ভাইকে কবরে নেয়ার আগে খাটের উপর সাদা কাফনে মোড়ানো নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে বারবার চোখ মুছছিল জানাজায় অংশ নেয়া গফরগাঁও প্রেসক্লাবের উপস্থিত সদস্যগণ।

লেখক- মো. আজহারুল হক, গফরগাঁও প্রতিনিধি, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ।


তামাক ও নিকোটিন থেকে তরুণদের
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস আজ ৩১
বিস্তারিত
রক্ত জমাট বাঁধা: করোনায় মৃত্যুর
পঞ্চাশ বয়সের একজন ভদ্রলোক হাসপাতালে ভর্তি হন কভিড ১৯ পজিটিভ
বিস্তারিত
উন্নয়ন আর পরিবেশ রক্ষা, দুটি
উন্নয়ন আর পরিবেশ রক্ষা- দুটি কি একই সাথে সম্ভব? যদি
বিস্তারিত
করোনা প্রতিরোধে অন্তরের অসুখ নিরাময়
মানুষের অসুস্থতা প্রধানত দুই প্রকার, শারীরিক ও মানসিক। বিশ্বস্বাস্থ সংস্থা
বিস্তারিত
আমাদের চার পাশে হাজারো দু’পায়ের
আপনি পবিত্র রমজান মাসে কতজন লোককে সাহায্য করেছেন? একজন? দুইজন?
বিস্তারিত
সাংবাদিকতা ছাড়া কিছুতেই আর আনন্দ
বেশিরভাগ প্রতিবেদন প্রচার হবার পরে এক শ্রেণির তীর্যক তীর প্রতিহত
বিস্তারিত