করোনা যুদ্ধে ক্লান্তিহীন যোদ্ধা সেলিম মিঞা

দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যে আকার ধারণ করছে এতে বাদ পড়েনি সর্বদক্ষিণের জেলা বরগুনা। বরগুনার ৬টি উপজেলার ৫টিতেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগি সনাক্ত হয়েছে। একটি মাত্র উপজেলা তালতলীতে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। উপজেলাকে করোনা মুক্ত রাখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে মো. সেলিম মিঞার সাহসী ভূমিকার কথা সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সেলিম মিঞা গত ৭ অক্টবার তালতলী উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এর কিছু দিন পরেই ঘুর্ণিঝড় বুলবুল সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেন এবং ক্ষতিক্ষস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

এরপরে আসে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব। আসতে থাকে একের পর এক সরকারী নির্দেশনা। নিদের্শনাগুলো বাস্তবায়নে ও সাধারণ মানুষেদের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মাঠে দিন রাত কাজ শুরু করেন তিনি। এদিকে চলামান করোনা সময়কালে গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ১৪০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। যাতে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৭০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। বিদেশ ও ঢাকা ফেরত মানুষদের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন ও হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করা হয়। যার কারণে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে আমাদের সেলিম স্যার। যার সাহসিকতার প্রশাংসা করছে সতেচন মহল।

এদিকে গত ১৮ এপ্রিল থেকে বরগুনা জেলাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। পরে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়ার সহযোগিতা নিয়ে এই লকডাউন যাতে সাধারণ জনগণ সঠিকভাবে পালন করেন ও  সচেতনতায় কাজ করেন। তালতলীতে সর্বপ্রথম সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জেলেদের চাল বিতরণ, আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা, বিদেশ ফেরত ও পরে ঢাকা ফেরত কেউ আসলে তাদের হোম কোয়ারান্টাইন, প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করা, ব্যবসায়ীরা করোনা ভাইরাসের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর মূল্য যেন বৃদ্ধি না করে সে বিষয়ে বাজার মনিটরিং এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, করোনা ভাইরাসের কারণে বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবার গুলোকে জীবন বাঁজি রেখে দিন রাত খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া, ঔষধের দোকানের সামনে একে দেন নিরাপত্তা গোল বৃত্ত, সামজিক দুরত্ব বজায় রেখে মাছ ও কাঁচা বাজার খোলা মাঠে সড়িয়ে নেওয়া, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করে কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের সরকারী খাদ্য সহায়তা দেওয়া সহ করোনা সংক্রমণ এড়াতে গনসচেতনতায় কাজ করতেন তিনি। যা সচেতন মহলে প্রশংসিত।

সতেচন মহল বলছে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনা (ভূমি) সেলিম মিঞা এ উপজেলায় পদায়ন করার পর থেকেই তালতলীকে গতিশীল করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করছেন। পাশাপাশি তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়ার তাদের দুইজনের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে এখনো করোনা মুক্ত আছে ও সাধারন মানুষ নিরাপদ রয়েছে। এরপর গত (২৩ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান তালতলীতে দায়িত্ব নেওয়াতে তার পাশে থেকে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের মাঝে সামাজিক দূরর্ত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন চুন্ন বলেন- সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম মিঞা আসলেই দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক ভাবে উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছেন। যা প্রশাংসার দাবি রাখে। প্রশাসন যে জনগণের সেবক তা বাস্তবে কাজেকর্মে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। বরগুনা জেলার অন্যসব উপজেলায় করোনা সনাক্ত হয়েছে কিন্তু তালতলীতে এখনো করোনা সনাক্ত হয়নি। যার নেত্বত্বে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম মিঞা। তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ।

সিনিয়র সাংবাদিক ও তালতলী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম মিঞা দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক ভাবে সাধারণ মানুষ লকডাউনের ভিতর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে বিষয়ে সব সময় মাঠে কাজ করছেন। যার ফলসরুপ আজকে তালতলীতে কোনো ধরনের করোনা সনাক্ত হয়নি। আর রাতের আধারে করোনা সংক্রমনে কর্মহীন মানুষের বাড়িতে খাদ্য সহায়তাসহ প্রযোজনীয় জনিসপত্র নিজেই পৌঁছে দিতে দেখেছি। আসলেই তার এই মহৎ কাজের প্রশংসা না করলে হয়তো অপূর্ণতা থেকে যাবে।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম মিঞা বলেন- আমি গত ৭ অক্টবর ২০১৯ এ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করি। একই সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করি। তার কিছু দিন পরই এ উপজেলায় ঘুর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানে সেই দুর্যোগ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বরগুনার সম্মানিত জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ্ স্যারের সার্বক্ষণিক নিদের্শনা এবং সরকারের অন্যান্য নির্দেশনা বাস্তবানে করোনা দূর্যোগের শুরু থেকেই সবাইকে সাথে নিয়ে একটা টিম হিসেবে সব সময় মাঠে কাজ করছি। যাতে করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে তালতলী মানুষদের মুক্ত রাখা যায়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ডাক্তার, সরকারী দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ও গন্যমান্য ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংবাদিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক সহযোগিতায় এখনও পর্যন্ত তালতলী উপজেলাকে করোনা মুক্ত ও কর্মহীন মানুষদের মাঝে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে স্বচ্ছতার সাথে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিশেষ করে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যিনি অতন্ত্য পরিশ্রমী অফিসার সার্বক্ষনিক প্রতিটি বিষয়ে আমরা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনারা জানেন গত ২৩ এপ্রিল নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোগদান করায় উপজেলার করোনা সংক্রমন প্রতিরোধ টিমের কাজে আরও গতি সঞ্চার হয়েছে। স্যারের নেতৃত্বে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ ভবিৎষতে করোনা মুক্ত উপজেলা হিসেবে এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠবো।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করা ছিলো আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে আমরা সফল হয়েছি। তালতলীর প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। বাজারগুলোতে জনসমাগম এড়াতে দিনরাত পুলিশ কাজ করছে। যাতে করে তালতলী উপজেলাকে করোনা ভাইরাস মুক্ত রাখা যায়। এসবের সবচেয়ে বড় অবদান ছিলো তখনকার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম মিঞার। তার সহযোগিতায় আজ তালতলী করোনা মুক্ত আছে। এখন আরও করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় গতি আরও বেগমান হয়েছে নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসায়। আগামীতেও তালতলী উপজেলাকে করোনা মুক্ত রাখা যাবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ স্যারের নির্দেশানা মোতাবেক আমরা উপজেলা প্রশাসন কার্যকরভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তালতলী পুলিশ, নৌবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিয়ে কাজ করছি। বিদেশ ও ঢাকা ফেরত মানুষদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করেছি। এ উপজেলার প্রবেশ পথে চেকপয়েন্টগুলো বিশেষ নজরদারিতে আছে। মহান আল্লাহর রহমতে তালতলী উপজেলা এখনো করোনা মুক্ত আছে।

লেখক- মো. খাইরুল ইসলাম আকাশ, গণমাধ্যমকর্মী।


করোনায় গৃহবন্দীর জবানবন্দি ও মুক্তির
কারাগারের বন্দীরাও মনে হয় সীমিত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। কিন্তু
বিস্তারিত
সোশ্যাল স্টিগ্মা যখন কোভিড ১৯
যুগে যুগে বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দুর্যোগ কনসেপ্টটি ‘ঈশ্বর প্রদত্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়’
বিস্তারিত
জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু
১৯৭৩ সালের ২৩ মে বাংলাদেশ জাতীয়  সংসদের উত্তর প্লাজায় উন্মুক্ত
বিস্তারিত
ওকে ভালোবাসি বলেই হয়তো বেঁচে
ছাত্র জীবনে একটা বড়সড় বন্ধু মহল ছিলো, প্রেম, আড্ডা, গল্প,
বিস্তারিত
ইউএনও’র দায়িত্বশীল নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে
একজন দায়িত্বশীল সরকারী কর্মকর্তাই পারে তার শ্রম, মেধা ও দক্ষতার
বিস্তারিত
করোনাকালে স্বাভাবিক মৃত্যুও বিড়ম্বনাময়
করোনার ছোবলে সমগ্র পৃথিবী থমকে গেছে। খবর এখন একটাই তা
বিস্তারিত