logo
প্রকাশ: ০৩:২১:৪৭ AM, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
ইউনেস্কোর তালিকায় বিশ্বের প্রভাবশালী কবিদের কাতারে আবু মুসলিম বাহলানি
যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম

বাহলানির কবিতা ছিল সূক্ষ্ম প্রেমময়। কিন্তু তার সাহিত্য ও চিন্তাজগতে সবসময় ধর্ম ও রাজনৈতিক দিকই প্রভাব বিস্তার করত। জাঞ্জিবার ও ওমানে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে তার ভূমিকা ওমানিদের কাছে তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিচারক ও প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন ইনসাফ ও তাকওয়ার সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা, নিজের প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা ও পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত অন্যান্য পত্রিকায় কাজ করার সময় সাংবাদিক জীবনের ভূমিকা আরব জাতির বিভিন্ন বিষয়ে ও সবার মাঝে ঐক্যের ক্ষেত্রে তাকে 
উদার বানিয়ে দিয়েছে

ওমানি কবি আবু মুসলিম বাহলানির (নাসির বিন সালেম রাওয়াহি) মৃত্যুর শত বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) সংস্কৃতি ও সংস্কারমূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকার ফলে তাকে বিশ্বের প্রভাবশালী কবিদের মধ্যে গণ্য করেছে। খবরটি ওমানবাসীর মাঝে আনন্দের ঢেউ তুলেছে। ওমানবাসী তাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। তিনি ওমানি ইতিহাসে একজন বিশিষ্ট কবি। তার আত্মশুদ্ধিমূলক কবিতাগুলো তাদের মনে অনেক প্রভাব সৃষ্টি করে। তার ‘নুনিয়া’ কবিতাকে গণ্য করা হয় ওমানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কবিতা। ৪০০ চরণের বেশি হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি ঘরে তা পাঠ করা হয়। 
বাহলানি ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি কবিতার প্রতি যতœবান ছিলেন। ছোটবেলায়ই তিনি কবিতা রচনা করেন। তিনি বেড়ে উঠেছেন সাহিত্য, কবিতা, ফিকহ (ধর্মীয় শাস্ত্র) চর্চাকারী পরিবারে, যা তার ব্যক্তিত্ব গঠন ও উৎকর্ষ লাভে বিরাট প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘জাঞ্জিবার’ গমন করেন। সেখানে তিনি প্রতিভা বিকশিত করেন। ১৯১১ সালে ওমানি প্রথম পত্রিকা ‘আন নাজাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন। সে অঞ্চলে ওমানিদের সংস্কৃতি ও গবেষণার জগতে ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করে পত্রিকাটি। এর মাধ্যমে আরব গবেষকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর হয়।
জাঞ্জিবারের প্রতি টান
জাঞ্জিবারে থাকাকালীন সময়ে তিনি তার কবিতার পাঠকদের হৃদয়ে জাঞ্জিবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করেন। তিনি তার কবিতায় ওমান ও ওমানিদের সম্বোধন করেন। কবিতায় তিনি তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তার জাগরণী কবিতায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। তিনি ঐক্যের প্রতি আহ্বান জানান। মতভেদ পরিত্যাগ করতে উৎসাহিত করেন। কিছু সাহিত্য সমালোচকের দৃষ্টিতে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে তার প্রকাশিত কাব্য-সঙ্কলন আধুনিককালে প্রকাশিত প্রথম ওমানি কাব্য-সঙ্কলন। 
তার কবিতাগুলোয় দীর্ঘতা লক্ষণীয় পর্যায়ে। ‘ওয়াদিয়ে মুকাদ্দাস তথা পবিত্র উপত্যকা’ নামীয় তার কবিতার চরণ ১ হাজার ৫০০-এর বেশি। মরহুম মুহাম্মদ হারেছি তার যে কবিতাগুলো একত্রিত করেছেন তা ৯০০ পৃষ্ঠারও বেশি। তিনি অন্যায়-অবিচার ও শত্রুদের বিরুদ্ধে এবং আরব দেশগুলোয় অনুপ্রবেশকারী যোদ্ধাদের তাড়ানোর লক্ষ্যে কবিতা রচনা করেন। এগুলো তার ধর্ম ও দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও আকর্ষণের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। 
বাহলানির কবিতা ছিল সূক্ষ্ম প্রেমময়। কিন্তু তার সাহিত্য ও চিন্তাজগতে সবসময় ধর্ম ও রাজনৈতিক দিকই প্রভাব বিস্তার করত। জাঞ্জিবার ও ওমানে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে তার ভূমিকা ওমানিদের কাছে তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিচারক ও প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন ইনসাফ ও তাকওয়ার সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা, নিজের প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা ও পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত অন্যান্য পত্রিকায় কাজ করার সময়ে সাংবাদিক জীবনের ভূমিকা আরব জাতির বিভিন্ন বিষয়ে ও সবার মাঝে ঐক্যের ক্ষেত্রে তাকে উদার বানিয়ে দিয়েছে। 
ওমানি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ওমানি সিনিয়র কবি আবু মুসলিম বাহলানিকে ইউনেস্কোর তালিকায় প্রবেশ করানো সম্ভব হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চেষ্টার ফলে। তারা ইউনেস্কোর শর্তাদি প্রয়োগ হয় এমন ব্যক্তিত্ব নির্বাচনে ‘ওমান জাতীয় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি পরিষদ’ গঠন করে। পাশাপাশি কাক্সিক্ষত প্রায়োগিক সব দিক লক্ষ্য করে পূর্ণাঙ্গ মনোনয়ন ফাইলও তারা প্রস্তুত করে। 
আবু মুসলিম বাহলানিকে জাঞ্জিবারের ‘মাহজার’ পত্রিকার কবি ও অগ্রপথিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তার প্রভাব ছিল বৈশ্বিক। দেশের বাইরে বিভিন্ন আরব ভূখ-ে ও পূর্ব আফ্রিকায়ও তার প্রভাব ছিল। এর দ্বারাই ওমানি কবির নাম বিশ্বের সৃজনশীল কবিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো।  

হ সূত্র : আলজাজিরা

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]