logo
প্রকাশ: ০৫:৪৬:১৬ PM, শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০
মোবাইলে ছাত্রীর বাল্যবিয়ে: খাবার গেল মাদরাসা ও এতিমখানায়
চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডে নগর বেপারী বাড়িতে নয়া কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে জাল জন্মনিবন্ধন তৈরি করে অষ্টম শ্রেণীর তানিয়া (১৬) নামের ছাত্রীকে  বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া হাজীগঞ্জে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া।

এ সময় বরযাত্রীসহ মেহমানদের জন্য রান্নাকৃত খাবার স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদরাসায় ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের ওমান প্রবাসী আল-আমিনের সাথে মোবাইল ফোনে ভিডিওকলে এই বাল্যবিয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চান্দ্রা ইউনিয়নের কাজী সাইদুর রহমানের সহযোগী এই বাল্যবিবাহ ভিডিও কলের মাধ্যমে বিদেশ প্রবাসী সাথে বিয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বাড়ি গ্রামের নগর বেপারী বাড়িতে এই বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, চান্দ্রা ইউনিয়ন এর চৌরাস্তাসংলগ্ন চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা বাদশা মিজির ছেলে দীর্ঘ আট বছর যাবত ওমান থাকেন।

ওমান প্রবাসীকে বিয়ে করানোর জন্য তার বাবা বিভিন্ন জায়গায় মেয়ে দেখার জন্য যায়। পরে চেয়ারম্যান ঘাটের ঘটক মোখলেসের মাধ্যমে নগরের মালয়েশিয়া প্রবাসী শফিক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তানিয়া আক্তারকে দেখেন।

স্কুলছাত্রীর মায়ের সম্মতিতে অবশেষে শুক্রবার প্রবাসী ছেলের বাবা বাদশা মিজি লোকজন নিয়ে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করেন।

ওয়ার্ড মেম্বার সিদ্দিকুর রহমান বেপারীর উপস্থিতিতে অবশেষে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলার সকল ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র চান্দ্রা ইউনিয়নে প্রতিমাসে গোপনে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি বাল্যবিবাহ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সরকার যেখানে বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সেখানে প্রতিনিয়ত এই ইউনিয়নে পেশী শক্তি ব্যবহার করে বাল্যবিবাহ হওয়ায় জনমনে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা যায়।

বাল্যবিবাহ হওয়ার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খানজাহান আলী কালু পাটোয়ারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকায় অনেক সময় গোপনে কাউকে না জানিয়ে বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে। তবে যদি বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে তাহলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা মহোদয়কে অবহিত করেন, তিনি বাল্যবিবাহ বন্ধ লক্ষ্যে এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অপরদিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া। এ সময় বরযাত্রীসহ মেহমানদের জন্য রান্নাকৃত খাবার স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ এবং ছাত্রীর বাবাকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের টঙ্গীরপাড়-নোয়াপাড়া গ্রামের মিজি বাড়ীতে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ওই ছাত্রী ইছাপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা গেছে, এ দিন বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে বরযাত্রী আসার আগেই বিয়ে বাড়ীতে গিয়ে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া। তিনি মেয়েটির শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে সম্প্রতি নেয়া নতুন একটি জন্মনিবন্ধন দেখান তার আত্মীয়-স্বজনেরা।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে ছাত্রীর বাবা দোষ স্বীকার করেন এবং ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে না দেয়ার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন তিনি। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান মির্জার উপস্থিতিতে বাবার জিম্মায় দিয়ে ছাত্রীকে দিয়ে দেন ইউএনও।

এর আগে বিয়ের খাবার স্থানীয় লাওকরা হযরত আমানত শাহ ও শাহেনশাহ (রহ:) হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ এবং মেয়ের বাবাকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া এবং মেয়েটির পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত লোকজনকে বাল্যবিবাহের কুফল ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বিষয়ে অবহিত করেন তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান মির্জা দুলাল, থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমিজ উদ্দিন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জিয়াউল হক ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধি এবং গ্রাম-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]