logo
প্রকাশ: ০৭:৩৯:১৭ AM, শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২০
বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় বেড়ে উঠুক আমাদের সন্তানরা
উমর ফারুক মাসরুর

ভাষার মাস শেষ হওয়ার পথে। এ মাসে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি অনেক দরদ জেগে ওঠে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ মাসে নানা উৎসাহ-উদ্দীপনায় আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠান, কর্মশালা, র‌্যালি। লাল সবুজের রঙিন সাজে সজ্জিত হয় পুরো বাংলাদেশ। কিন্তু এত আয়োজন-উদযাপন শেষে আমরা অনেকেই আগের মতোই মাতৃভাষার প্রতি উদাসীন হয়ে যাই। বিশুদ্ধ বাংলা ভাষায় কথা বলার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্ট হয়ে যায়। 
ইসলাম বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় কথা বলতে সবাইকে গুরুত্ব ও উৎসাহ দেয়। এই পৃথিবী, গ্রহ-নক্ষত্র ও সৌরজগত যেমন আল্লাহর সৃষ্টি, তেমনই নানা বর্ণ ও বৈচিত্র্যময় ভাষাও আল্লাহর আরেকটি অপার সৃষ্টি। সূরা রুমের ২২ নং আয়াতে তিনি বলেন, ‘তার আরও এক নিদর্শন হচ্ছে নভোম-ল ও ভূম-ল সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।’ এই আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, আমাদের এই মাতৃভাষা ‘বাংলা’ একমাত্র আল্লাহ তায়ালারই সৃষ্টি ও দান। 
তাই তো আল্লাহর দেওয়া দান ও আমাদের মায়ের ভাষা আমাদের কাছ থেকে কাউকে কেড়ে নিতে আমরা দেইনি। কিন্তু আমরা আমাদের এই ভাষাকে কতটুকু গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করি, কত শতাংশ শুদ্ধ বাক্য শুদ্ধ উচ্চারণ করি! পরিসংখ্যান করলে হতাশ হতে হবে। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন শুদ্ধ উচ্চারণ ও বিশুদ্ধ ভাষার অন্যতম রোল মডেল। তিনি বলেন, ‘আমাকে দান করা হয়েছে সর্বমর্মী বচন।’ (মুসলিম : ৫২৩)। তৎকালীন মক্কার কাফের-মুশরিক সরদাররাও একথার স্বীকৃতি দিত। তারা মানুষকে বলত, তোমরা মুহাম্মদের (সা.) কাছে যেও না, তার কাছে অন্যকে সম্মোহন ও আকৃষ্ট করার জাদু আছে।’ (সিরাতে মুস্তাফা, কান্ধলবী ১/১৮১)।
সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ ভাষায় সঠিক উচ্চারণে কথা বলা মুহাম্মদ (সা.) এর একটি সুন্নাহ। তিনি নিজে যেমন বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলেছেন, তেমনি সাহাবায়ে কেরামকেও বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। এমনকি অনেক সাহাবিকে বাক্য ব্যবহারের ভুল সংশোধন করে দিতেন। তারাও নবীর এ সুন্নাহকে ভালোভাবে অনুসরণ করতেন। 
আমাদের শিশুদের ছোট থেকে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা শেখাতে হবে। মায়েদের এ বিষয়টিতে বেশি যতœবান হওয়া দরকার। কেননা, মায়ের কাছ থেকেই তো আমরা মাতৃভাষা পাই। নারী সাহাবারাও রাসুলের এ সুন্নত পালন করতেন। মূসা বিন তালহা বর্ণনা করেন, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বিশুদ্ধ ভাষী আমি আর কাউকে দেখিনি। (জামে তিরমিজি : ২/২২৭)। মায়েদের পাশাপাশি পরিবারকেও যতœবান হতে হবে। ইমাম বুখারি (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) তার সন্তানকে অশুদ্ধ ভাষায় কথা বলার কারণে শাসন করতেন। (আল-আদাবুল মুফরাদ : ৮৮০)।
শুদ্ধ, প্রাঞ্জল ও সঠিক উচ্চারণে কথা বলে সুন্নত আমলের পাশাপাশি তা নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। বিশুদ্ধ ভাষার চেয়ে বড় আভিজাত্য আর কিছুই নেই। তাই আসুন, আমরা আমাদের ভাষার মাসের শেষ সময়ে প্রতিজ্ঞা করি সর্বদা বিশুদ্ধ বাংলা ভাষায় কথা বলব। সন্তানদের জন্য বিশুদ্ধ বাংলা ভাষা ও সঠিক উচ্চারণে কথা বলার পরিবেশে গড়ে তুলব।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]