হলফনামা ২০২৬: সম্পদে এগিয়ে তারেক–শফিকুর, আয়ে নাহিদ
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫১ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ তিন নেতার হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে—মোট সম্পদের দিক থেকে তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান এগিয়ে থাকলেও বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তরুণ নেতা নাহিদ ইসলাম।
ব্যক্তিগত তথ্য ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
- ডা. শফিকুর রহমান: তিন নেতার মধ্যে তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ, যার বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। তিনি একজন পেশাদার চিকিৎসক এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস।
- তারেক রহমান: বিএনপির এই শীর্ষ নেতার বর্তমান বয়স ৫৭ বছর। হলফনামা অনুযায়ী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি।
- নাহিদ ইসলাম: এই তিনজনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ বা তরুণ নেতা, যার বয়স মাত্র ২৭ বছর। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসএস।
তারেক রহমানের মোট সম্পদ ও আয়
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার হলফনামার মূল তথ্যগুলো হলো:
মোট সম্পদ: ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা।
বার্ষিক আয়: ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা (শেয়ার, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকে)।
নগদ ও ব্যাংক আমানত: ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা (নিজের) এবং স্ত্রীর নামে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা।
এফডিআর: ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা।
আইনি অবস্থা: তার বিরুদ্ধে থাকা ৭৭টি মামলার সবকটি থেকেই তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান: নগদ অর্থ ও জমিতে শক্ত অবস্থান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মোট সম্পদ উল্লেখযোগ্য হলেও বার্ষিক আয় তুলনামূলক কম।
মোট সম্পদ: ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
নগদ টাকা: ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা।
বার্ষিক আয়: ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা (কৃষি ও অন্যান্য খাত থেকে)।
স্থাবর সম্পদ: ১১.৭৭ শতক জমিতে ডুপ্লেক্স বাড়ি (মূল্য ২৭ লাখ টাকা) এবং ২ একর ১৭ শতক কৃষিজমি।
আইনি অবস্থা: ৩৪টি মামলার মধ্যে ৩২টি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, বাকি ২টি স্থগিত আছে।
নাহিদ ইসলাম: আয়ে সবার ওপরে, মামলাহীন
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ তুলনামূলক কম হলেও বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে তিনি শীর্ষে।
বার্ষিক আয়: ১৬ লাখ টাকা (পরামর্শক পেশা থেকে), যা তিন নেতার মধ্যে সর্বোচ্চ।
মোট সম্পদ: ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা।
নগদ টাকা: ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
আইনি অবস্থা: তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
অলঙ্কার: নিজের পৌনে ৮ লাখ এবং স্ত্রীর ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।
সম্পদ ও আয়ের তুলনামূলক চিত্র
সম্পদের হিসেবে তারেক রহমান সবার চেয়ে এগিয়ে থাকলেও বার্ষিক আয়ের দৌড়ে চমক দেখিয়েছেন তরুণ নেতা নাহিদ ইসলাম।
- তারেক রহমান: মোট সম্পদের পরিমাণ ১,৯৬,৮০,১৮৫ টাকা এবং বার্ষিক আয় ৬,৭৬,৩৫৩ টাকা।
- ডা. শফিকুর রহমান: মোট সম্পদ ১,৪৯,৯৯,৪৭৪ টাকা এবং বার্ষিক আয় ৩,৬০,০০০ টাকা।
- নাহিদ ইসলাম: মোট সম্পদ ৩২,১৬,১২২ টাকা হলেও বার্ষিক আয় ১৬,০০,০০০ টাকা, যা তিনজনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মামলার পাহাড় বনাম শূন্য মামলা
আইনি অবস্থানের দিক থেকে বড় পার্থক্য দেখা যায়। তারেক রহমানের নামে সর্বোচ্চ ৭৭টি মামলা রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের নামে রয়েছে ৩৪টি মামলা। অন্যদিকে, নাহিদ ইসলামের হলফনামায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য উল্লেখ নেই।
