নতুন রূপে ফ্যাসিবাদ ফিরলে কঠিন পরিণতি হবে: জামায়াত আমির
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও আমরা আর দেখতে চাই না। যদি নতুন কোনো জামা পরে ফ্যাসিবাদ আবারো সামনে আসে, তাহলে ৫ আগস্টের পরিণতি আবারও ঘটবে। অতীতের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি যেন পুনরায় ফিরে না আসে, এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং ফ্যাসিবাদের যেকোনো চিহ্ন শূন্য করার চেষ্টা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার যাদের হাতে নিশ্চিত হবে আমরা সবাই মিলে তারই সঙ্গী হব। আমরা তাদেরই সঙ্গী হবো, যারা নিজেদের কর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, মামলাবাজি আর সন্ত্রাস, পাথর চাপা দিয়ে হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবেন। যারা তা পারবেন না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝে নেবে।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, আজ তাদের আর দেখা যাচ্ছে না—এটা একটা বড় শান্তি। যারা ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, ফ্যাসিবাদের সময়ে আমরা-আপনারা যে কষ্ট ভোগ করেছি, সেই কষ্ট মেহেরবানি করে আর কেউ জনগণকে দেবেন না।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ছায়া কাজ করছে। যদি এটি বন্ধ না হয়, আগামী ১২ তারিখ জনগণ দুই ধরনের ‘না’ ভোট দেবে এবং অনেকগুলো ‘না’ ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ। জনগণের মুখে এখন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনীতির কাঠামো পরিবর্তনের ইচ্ছা স্পষ্ট। তাই গণভোটে তারা ‘হ্যাঁ’ বলবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় শিশু, তরুণ-যুবক, বৃদ্ধ, নারী—সবাই রাস্তায় নেমেছে। নির্বাচনী মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছে। তিনি বলেন, ১০ দলকে বিজয়ী করার মানে হচ্ছে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, এবং নারীর ইজ্জতের উপর হাত তোলার বিরুদ্ধে ‘হাট’—এই সব মিলিয়ে একটি বৃহৎ আন্দোলন গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজে আজ যত বৈষম্য, দুঃশাসন আর দুর্নীতি—তার মূল কারণ হলো ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি। যদি দেশে ইনসাফ থাকতো তবে দুর্নীতিবাজ, লুটেরা আর ডাকাতরা জনগণের সম্পদ লুট করে ব্যাংক খালি করে দিয়ে দেশ থেকে নিরাপদে পালানোর সুযোগ পেত না। তারা বিদেশে বেগমপাড়া গড়তে পারত না, বাংলাদেশের বুকে সন্ত্রাসের রাজ্য কায়েম করতে পারত না। এই কালো টাকা দিয়েই আবার সন্ত্রাস কেনা হয় আরও বেশি কালো টাকা বানানোর জন্য।
আবা/এসআর/২৫
