উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে ৫ বছরই যথেষ্ট: পঞ্চগড়ে জামায়াত আমির
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, তিনি সেখানে বক্তৃতা দিতে আসেননি, সাক্ষী দিতে এসেছেন। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে গরিব করে রাখা হয়েছে। অঞ্চলটি দেশের কলিজার অংশ হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছে করেই একে পিছিয়ে রাখা হয়েছে এবং অবহেলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা সদরের চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী উত্তরাঞ্চলে কোনো বেকার যুবক দেখতে চায় না। প্রতিটি মানুষের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য এবং প্রতিটি নাগরিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে তারা কাজ করতে চান।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ দায়িত্ব দিলে প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে এবং পঞ্চগড়েও একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
অর্থের উৎস নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২৮ লাখ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, সেই টাকা উদ্ধার করে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
জামায়াত আমির বলেন, উত্তরবঙ্গকে শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করার কথাও জানান তিনি। আগামী দিনে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দায় ও দয়ার বাংলাদেশ গড়তে চান বলে উল্লেখ করেন এবং যুবসমাজের হাত শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, তাদের কোনো বিশেষ কার্ড বা শক্তির উৎস নেই, জনগণই তাদের শক্তি। এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত আওয়াজ উঠলেও ভারসাম্য ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার স্লোগান হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, কেউ কেউ বসন্তের কোকিলের মতো সুযোগ বুঝে আসে, কিন্তু জামায়াতে ইসলামী দুঃখ-কষ্টের সময় দেশবাসীকে ফেলে কোথাও যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না।
তিনি বলেন, ১২ তারিখে বিজয় ছিনিয়ে আনা পর্যন্ত তাদের কাজ অব্যাহত থাকবে এবং কোনো পুরোনো দুর্বৃত্ত যেন নতুন কোনো পোশাকে ফিরে আসতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ১০ দলীয় নেতারা।
