ভারতের সঙ্গে চুক্তির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মাহাদী আমীন

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তি সম্পর্কিত অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ হিসেবে দেখছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে দলের কোনো চুক্তি হয়নি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন এসব কথা জানান।

সম্প্রতি জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি ইঙ্গিত করে দাবি করেছিলেন যে বিএনপি ভারতের সঙ্গে তিনটি চুক্তি করেছে। এ বিষয়ে মাহাদী আমীন বলেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ নেই এবং তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি এটিকে বিতর্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি রাজনৈতিক অপকৌশল ও অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করেন।

মাহাদী আমীন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা মানে ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে অপপ্রচার, অপকৌশল বা অপরাজনীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতি সম্পূর্ণ বাংলাদেশপন্থি, যেখানে দলের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের ক্ষমতায়ন।

নিজেদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে মাহাদী আমীন বলেন, তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিএনপি ধারাবাহিক আন্দোলন করেছে এবং সীমান্তে ফেলানি হত্যার পর সবার আগে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের অংশ হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রিত।

বিএনপি ‘ইলেকশন হটলাইন’-এর কার্যক্রম সম্পর্কেও মাহাদী আমীন জানান, ভোট সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া, অভিযোগ গ্রহণ এবং মতামত জানার জন্য হটলাইন ১৬৫৪৩ এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৮০৬৯৭৭৫৭৭ চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বহু মানুষ এই হটলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সমাধান পেয়েছেন।

তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রসঙ্গেও সতর্কবার্তা দেন। মাহাদী আমীন বলেন, কিছু প্রতারক এই কার্ড দেওয়ার নামে টাকা আদায় করছে, যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই কার্ডগুলো বিনা মূল্যে এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ ব্রিফিং শেষে মাহাদী আমীন আশা প্রকাশ করেন, দেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার বন্ধ হবে এবং একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নির্বাচনি পরিবেশ গড়ে উঠবে।