ক্ষমতায় গেলে নতুন শিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে: তারেক রহমান

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ভোটে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশে নতুন নতুন শিল্প স্থাপন করা হবে, এসব শিল্প থেকে নতুন রপ্তানি খাত তৈরি হবে এবং এর মাধ্যমে আরও বেশি মা-বোনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ময়দানে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, গাজীপুর শিল্পনগরী; এটি শুধু শিল্পনগরী নয়; এটি গার্মেন্টসের রাজধানী। এখন এ গার্মেন্টসে লাখ লাখ মা-বোনেরা কাজ করেন, ভাইয়েরাও কাজ করেন। এ শিল্প এনেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তারপরে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে; মা-বোনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই যে বিদেশে আমাদের শ্রমিক যায়, সে ব্যবস্থা কে করেছেন। সেটাও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থাৎ বিএনপি সরকার করেছে। এই যে আমাদের মেয়েরা স্কুলে ফ্রি শিক্ষা পায়, প্রাইমারি থেকে নিজে ইনকাম করা পর্যন্ত-এটা কে করেছেন বলেন তো? খালেদা জিয়া। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য যদি কেউ কাজ করে থাকেন, সেটা বিএনপিই একমাত্র করেছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গাজীপুর জেলার জন্য আমরা কতগুলো চিন্তা-ভাবনা করেছি, এ জায়গার মানুষের সমস্যার কথা চিন্তা করে। জয়দেবপুরের রেলক্রসিংয়ে একটা ওভারপাস নির্মাণ করব; যেটা নির্মাণ করলে আপনাদের বিআরটি প্রকল্পের জন্য সৃষ্ট অসহ্য যানজট দূর হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এটা আমরা বাস্তবায়ন করব। 

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, আমাদের যারা নারী শ্রমিক আছেন, সব গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বাচ্চারা যাতে ঠিকভাবে থাকে, সেজন্য আমরা ডে-কেয়ার সেন্টার বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছি।

চিকিৎসা সেবা তিনি বলেন, আমরা মা-বোনদের কাছে, শিশুদের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি এলাকায় এলাকায় হেলথ কেয়ার রাখতে চাই। যাতে করে বাচ্চারা, আমার মায়েরা ঘরে থেকেই চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন। এছাড়া শ্রমিকরা যাতে স্বল্পমূল্যে আবাসন পায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই যে লাখ লাখ মা-বোন আছেন, তাদের জন্য আর একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যে মায়েরা খেটে খান, কষ্ট করেন, পরিশ্রম করেন, সেই মায়েদের জন্য আমরা দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেককে একটি কার্ড দেব। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। সেই কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক মায়ের কাছে সরকারের কাছ থেকে একটু সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই, যেন মাস শেষে তাদের কষ্ট কিছুটা কম হয়।

কৃষকদের নিয়ে তিনি বলেন, বহু মানুষ আছেন, বহু জায়গায় চাষবাস করেন। এই কৃষক ভাইদের আমরা সহযোগিতা করতে চাই। এজন্য আমরা কৃষক কার্ড তৈরি করেছি, সেই কার্ড মধ্যে আমরা কৃষকদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দেব।

ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যার যার ভোটকেন্দ্রের সামনে জামায়েত করে ফজরের নামাজ পড়বেন; যাতে করে ওখানে অন্য কেউ আগে থেকেই অবস্থান নিতে না পারে। কেউ যেন ষড়যন্ত্র করে আগেই ভিতরে বসে না থাকে। গত ১৫-১৬ বছর এ এলাকাসহ সারা বাংলাদেশে আপনাদের ভোটের অধিকার ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।

স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষায় গাজীপুরের মানুষের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষায় গাজীপুরের মানুষের বিরাট অবদান আছে। কাজেই এ অবদানকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

গাজীপুরের নিজের শৈশবের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে এ মাঠে আমি অনেক খেলেছি, দৌড়াদৌড়ি করেছি। রাজবাড়ীতে লাল দুটো বাংলো ছিল, সেই বাংলোতে আমরা পরিবারের সবাই থাকতাম। আমার ছোটবেলা গাজীপুর এ জায়গায় কেটেছে। কাজেই গাজীপুরে মানুষের কাছে আমার একটি হক আছে। আপনাদের কাছে আমার একটি দাবি থাকলো ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে; স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে দেশ থেকে। এখন দেশ গড়ার পালা। এখন হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার সময়। কাজেই আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, কাজ করতে হবে; ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, কাজ করি, পরিশ্রম করি; ইনশাল্লাহ আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। 

নির্বাচনে সঠিক প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, করব কাজ, গড়বো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। কাজেই সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। আমাদেরকে সঠিক লোককে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে, যাতে মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারে। তারা এলাকার সমস্যা সমাধান করতে পারে।

সবশেষ ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ গাজীপুরে এসেছিলেন তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যানের এ জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ ২০ বছর নয় মাস ২৮ দিন পর তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো রাজবাড়ী ময়দান ও আশপাশের এলাকা।