নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমির
‘চাঁদাবাজি করবো, কিন্তু চাঁদাবাজ বলবেন না— এটা কোনো কথা!’
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি করবো, আমি চাঁদাবাজিও করবো, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না—এটা কোনো কথা।”
তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে জনগণকে চাঁদাবাজ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং দেশের মানুষ চাঁদাবাজির কারণে জর্জরিত।
শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যও মাঠে নামবে চাঁদাবাজি রোধ করতে। তিনি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাম্য ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মামলাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা সাধারণ জনগণের ওপর অতর্কিতভাবে প্রভাব বিস্তার করছে।
জামায়াত আমির প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির কারণ হিসেবে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবসাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের অবহেলা এবং দায়িত্বে গাফিলতির কারণে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে যদি ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের চিত্র বদলে যাবে এবং চাঁদাবাজদের কার্যক্রম কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে।
তিনি সতর্ক করেছেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মা-বোনদের ওপর হামলা, অফিসে আগুন দেওয়া, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ইত্যাদি নানা অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান প্রতিপক্ষের প্রতি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনকে নিজের সুবিধার্থে অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা যেন করা না হয়। এমন চেষ্টা করলে যুবসমাজ উদাসীন থাকবে না।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক, এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
