১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে জয়ী হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিবর্তন শুরু হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। চাঁদাবাজির কবল থেকে মুক্তির জন্য আমরা নির্দয় ও নিষ্ঠুর হব।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ানবাজার ও বনানীতে পৃথক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

কারওয়ানবাজারের সমাবেশে তিনি ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালান। তিনি বলেন, যুবকদের জন্যই চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। যুবকদের কারণেই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি।

যুব সমাজকে চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও অস্ত্রবাজ বানালে তা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, তরুণদের বেকার ভাতা নয়, সম্মানের কাজ দেওয়া হবে। কারিগরি শিক্ষা দিয়ে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।

চাঁদাবাজ রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতিও করবেন, চাঁদাবাজিও করবেন, আবার চাঁদাবাজ বলা যাবে না—এটা কোন ধরনের কথা। চাঁদাবাজি ছেড়ে দিলে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হবে না, তারাও মাঠে নামবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈষম্য নয়, ন্যায় বিচার কায়েম করতে হবে এবং সাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। ২৮ ডিসেম্বর কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের হাতেনাতে শিক্ষা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের জনগণকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

কারওয়ানবাজারে বিক্রি করা কৃষিপণ্যে কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য পায় তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সিন্ডিকেট ও চাঁদার কারণে কৃষক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পণ্য ঢাকায় আসতে আসতে দাম তিন থেকে চার গুণ হয়ে যায়।

শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন এই এলাকার বহু সমস্যার কথা বলেছেন। ক্ষমতায় এলে সেই অঙ্গীকার রক্ষা করা হবে। অতীতেও তাদের কাজের প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি সরকার দুর্নীতিবাজ হলে জামায়াতের মন্ত্রীরা কেন পদত্যাগ করেননি। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতি থেকে বেঁচে যায়—সে কারণেই জামায়াতের নেতারা পদত্যাগ করেননি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কারও ওপর প্রতিশোধ নেবে না এবং জুলুম করবে না। জামায়াত সে কথা রেখেছে, মিথ্যা মামলা দেয়নি। আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াত নেতাকর্মীদের আর্থিকভাবে নিঃস্ব করা হয়েছিল। তবুও তারা কারও সঙ্গে অন্যায় করেননি বলে দাবি করেন তিনি।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আলামত ভালো নয়। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, জায়গায় জায়গায় হামলা ও বাধা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেওয়ার কথা বললেও এখনো জনগণ আশ্বস্ত হয়নি। অন্যথায় ব্যর্থতার দায় নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফল মেনে নেবেন জানিয়ে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পথে হাঁটুন। আপনার কর্মসূচি চালিয়ে যান, জনগণের ইচ্ছা হলে গ্রহণ করবে।

এর আগে মিরপুরে জামায়াতের নির্বাচনী ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছর যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশ চালানো হয়েছে, মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জুলুম করা হয়েছে এবং ফ্যাসিজম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ চান তারা। নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। মিরপুর ও কাফরুল এলাকা দীর্ঘদিন সন্ত্রাসে জর্জরিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব, আল্লাহ যেন তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন।

হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারের বাস উদ্বোধন করে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে জনগণের শাসক না হয়ে তাদের সেবক হতে চান। প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করবেন, তবুও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে দেবেন না।

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গায়ের জোরে কিছুই করা যাবে না। সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কারওয়ানবাজারের সমাবেশে ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য দেন। মিরপুরের অনুষ্ঠানে নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ ১১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।