যারা দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ কীভাবে চালাবে: জামায়াত আমির

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০১ | অনলাইন সংস্করণ

জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা নিজেদের দল সামলাতে পারেন না, তারা কীভাবে দেশ চালাবেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ৫ আগস্টের পর কিছু নেতা নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে সুবিধা তুলেছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিষ্ঠতা সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জীবন দিতে রাজি আছি, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত দিতে রাজি নই। কেউ ষড়যন্ত্র শুরু করলেও তা তাদের নিজের প্রতি ফিরেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে মায়ের ও মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং যদি জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আর ঘটবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া হবে না।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুধু নিজের বিজয় চাইছে না, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। বিজয়ী হলে দেশের সব মানুষই এই বিজয়ের অংশীদার হবেন।

তিনি বলেন, তারা একটি সুন্দর দেশ গঠন করতে চায় যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে এবং বিচার ব্যবস্থাও সবার জন্য সমান হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি ঠেকানো হবে। লুটপাট করা অর্থ উদ্ধার করতে যারা লুটপাটে জড়িত নয় তাদের ক্ষমতায় আনা হবে। ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষ এবং রাষ্ট্রপতির জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, জামায়াতের অফিসে গিয়ে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সংগঠন নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। হাজার কর্মী আটক ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও তারা জনগণের জন্য কাজ চালিয়ে এসেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের হাতে অঢেল সম্পদ না থাকলেও ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মানুষের পাশে থেকেছেন। ৫ তারিখের পর কোনো প্রতিশোধ বা মামলা নেওয়া হয়নি এবং মানুষের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১২ তারিখের প্রথম ভোট গণভোট হবে। পরের ভোট দাঁড়িপাল্লায় হবে এবং দেশে কোনো ধর্ম বা বর্ণের বৈষম্য থাকবে না। যোগ্যতা অনুযায়ী দেশ গড়ে তোলা হবে, যা হবে গণমানুষের বাংলাদেশ।