নির্বাচন ঘিরে প্রতিশ্রুতির বন্যা : বাস্তবায়নে রূপরেখা কোথায়

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পরস্পর প্রতিযোগী দলগুলো তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দুই বড় দল ছাড়াও অন্যান্য দলও তাদের আলাদা ইশতেহার প্রকাশ করেছে। নির্বাচনি প্রচারাভিযানে ইশতেহারের অতিরিক্ত নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন প্রার্থীরা। প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে এ দেশের উন্নতি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

তবে প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, সে প্রশ্ন উত্থাপন করা যেতেই পারে। ইশতেহারের প্রসঙ্গ এলে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অতীতের নির্বাচনগুলোর আগে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব ইশতেহার প্রকাশ ও প্রচার করেছিল, সেগুলোর এক অতি ক্ষুদ্র অংশ বাস্তবায়িত হয়েছিল।

লক্ষ্য করা গেছে, নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতাসীনরা জাতির প্রতি দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকেনি। ফলে ভোটারদের আশাভঙ্গ হয়েছে। ইশতেহার বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ এমন যে, কোনো কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন-অযোগ্য হলেও ইশতেহারে তা যুক্ত করা হয়েছিল। জনসংখ্যাধিক্য ও সীমিত সম্পদের দেশে প্রতিশ্রুতি প্রদানের সময় তা পূরণের সামর্থ্য বিবেচনায় নেওয়া দরকার অবশ্যই।

এবারেও আমরা দেখছি, প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভেসে যাচ্ছে যেন দেশ। দুই প্রধান দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া হবে, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে নানা ধরনের কার্ড ও ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার কথা বলতে গিয়ে এমনসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো বাস্তবায়নের তেমন রূপরেখা জানা যায়নি।

বিশ্লেষকরা তাই দাবি করছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, সেগুলো বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। অবাস্তব প্রতিশ্রুতি নির্বাচিত সরকারের ওপর বড় চাপ ফেলবে বলেও বলছেন তারা। দ্বিতীয় কথা, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে জরুরি দায়িত্বশীলতা। নির্বাচিতরা কি ততটা দায়িত্বশীল হতে পারবেন, এ প্রশ্নও উঠেছে। নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে হবে এ সময়ের মধ্যেই।

জাতি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। আমারা আশা করতে চাই, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে প্রতিটি পক্ষই জাতীয় নির্বাচনকে অর্থবহ করে তুলবে এবং একটি নির্বাচিত সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সচেষ্ট হবে।