গণভোটের সংস্কার পুরোটাই মানতে হবে: জামায়াত আমির

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

সংবিধান সংস্কারে যেসব বিষয়ের ওপর গণভোট হয়েছে, তার পুরোটাই মানতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এর কোনো খণ্ডিত অংশের বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই না।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশটা সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে একটা দল সরকারি দল হিসেবে, আরেকটা দল বিরোধী দল হিসেবে থাকবে। সমাজে এক চাকায় কোনো গাড়ি চলে না, মিনিমাম দুই চাকা লাগে। সরকারি দল যদি ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনা করে, আমাদের সহযোগিতা থাকবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমরা তো জনগণের পক্ষে অবস্থান নেব। আমাদের অবস্থান হবে ক্লিয়ার।

তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের সময় আমরা যে কথাগুলো বলেছি। এগুলো আমাদের মুখের কথা ছিল না, বুকের কথা। তিন শর্ত আমরা চাইব সবাই মানুক। নম্বর ওয়ান—এ সোসাইটি আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দুই নম্বর হচ্ছে—বিচার বিভাগে বিচার বলতে কিছুই নাই। দেখেন না, এতগুলো ঋণ খেলাপি কিভাবে (সংসদ নির্বাচনে) চান্স পায়। এদের হাতে কীভাবে দেশ নিরাপদ হবে? হবে না তো। কারণ এরা তো সব সময় নিজের স্বার্থ দেখে। এ জায়গায় (সংসদে) এমন মানুষ যাওয়া দরকার, যে নিজের স্বার্থ দেখবে না, ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখবে। 

জামায়াত আমির বলেন, ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখলে কেউ ঋণ খেলাপি হয় না। ঋণ খেলাপি হলে আবার কীভাবে নেতা হতে চায়! লজ্জিত হওয়া উচিত। জনগণের টাকা আমার পকেটে ঢুকে আছে, আমি দিতে পারছি না। কারও ওপর সামান্য অবিচার হলেই কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করব।

তিনি বলেন, আরেক সাহেব কী নিয়ে আলাপ করবেন, এটা উনার মনের ব্যাপার। আমি তো উনার মনের ব্যাপার বলতে পারব না। উনি যদি আমার সঙ্গে আলাপ করেন, দেশ এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা আলাপ করব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ চলতে হলে তো সরকারি দল ও বিরোধী দল লাগবে। সরকারি দল, বিরোধী দল হাতে হাত রেখে চলবে, যদি দেশ সঠিক পথে চলে। যদি বেঠিক পথে চলে, তাহলে ওই চাকা চালাব না।

জাতীয় পার্টির বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি তো এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। এরা তো এখন ভূগোলে নাই। কেন নয়? তারা (জাতীয় পার্টি) তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। এখন তারা শুধু ভোটের জগত থেকে যায়নি, জনগণের মন থেকেও উঠে গেছে। এটা ওই কারণে—তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেনি। জামায়াত ইসলামী ওই ভুল করবে না।