নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে জামায়াতের মহিলা বিভাগের মানববন্ধন

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন–পরবর্তী দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যার প্রতিবাদ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে মানববন্ধন থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়।

‎মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, সরকারপ্রধান ৪ স্তরের নিরাপত্তা ভোগ করেন। তার এমপি-মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রটোকল ভোগ করেন। কিন্তু জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। 

এসময় রামপুরায় শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ঘটনা চেপে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

নারী ও শিশু ধর্ষণ-হত্যার চিত্র মূলধারার মিডিয়ায় দেখা না যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ চেয়ারে বসছেন, এসব নিউজ প্রচারে মূলধারার মিডিয়াকে ব্যস্ত দেখা যায়! 

অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, যারা চাকরি রক্ষা ও সম্মান পাওয়ার আশায় সরকারের চাটুকারিতা করে, তাদের মনে রাখতে হবে রিজিক এবং সম্মান সরকারের হাতে নয়, এটি আল্লাহর হাতে। সারাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং খুনের শিকারের ঘটনায় নারীবাদী নেত্রীরা চুপ কেন—এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামি মহিলা বিভাগ প্রশ্নবাণে জর্জরিত ছিলো জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারবে কিনা, মহিলারা নিরাপদ থাকবে কিনা? আমার প্রশ্ন হলো আসল কাজ কোনটা? নারীদের নিরাপত্তা দেওয়া না রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া? তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় বর্তমান নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজন পুরুষ, যা খুবই হাস্যকর।’ 

‎‎মানববন্ধনে মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি বলেন, আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই মব সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অপদস্থ করে অপসারণ করা হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, বরিশালে দেখেছি, আদালতে হুমকির মাধ্যমে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। রামপুরার ঘটনায় প্রশাসনকে জানানো হলে তারা বলছে এটা একটা দুর্ঘটনা, এটা মাইনা নেন, এটা খুবই লজ্জাজনক। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই।
‎‎‎
‎মানববন্ধনে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মারজিয়া বেগম। 

দাবিগুলো হলো— ‎

১. সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। 
‎২. অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। 
৩. এ ধরণের বর্বরতাকে রুখতে রাষ্ট্রকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। 
‎৪. রাজনৈতিক পরিচয়ের জের ধরে দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। 
৫. আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া। 
৬. প্রতিটি মা-বোন ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ‎
৭. গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের  দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ‎
৮. যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে- তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। 
৯. মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 
১০. শিশু নিরাপত্তা ও ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর, কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।