মানুষের কল্যাণই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য: তারেক রহমান

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৬:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়। সেই লক্ষ্য থেকেই কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের বীজ ও কীটনাশক কেনার জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এককালীন আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজারে পাতালী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ শ্রমনির্ভর জীবনযাপন করেন। তাই তাদের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েই বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকৌশল পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং তাদের ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও তার সঙ্গে ছিলেন।

দিনব্যাপী সফরে পাতালী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর মাসুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কক্সবাজারের শহিদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

সফরের অংশ হিসেবে পেকুয়া পৌরসভা ও নতুন মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। এ কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

এছাড়া দিনের শেষভাগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন এবং একটি সুধী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। নির্ধারিত সূচি শেষে রাতেই বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

পাশাপাশি সফর-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আগেই কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।