গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
জামায়াতের অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীরা মিছিলের জন্য ফুলবাড়িয়া এলাকায় জড়ো হলে বিএনপির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ছুরিকাঘাতে কবির আহমেদ নামে এক জামায়াত নেতা গুরুতর আহত হন। তিনি পেশায় মোবাইল পার্টস ব্যবসায়ী এবং জামায়াতের গুলিস্তান সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি।
বিএনপির দাবি, গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন মিছিল করতে পারে—এমন আভাস থাকায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা বিকেলে সেখানে মিছিল করছিলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে বিএনপির ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, গুলিস্তানের নগর প্লাজা মার্কেট নিয়ে দুই গ্রুপের বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি সমবায় অধিদপ্তর থেকে ওই মার্কেট সমিতির কমিটি ভেঙে দিয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের জন্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি করা হয়। আগের কমিটিতে জামায়াতের লোকজন ছিল। মার্কেটকে কেন্দ্র করে শনিবার জামায়াত ও বিএনপির লোকজন ফুলবাড়িয়ায় জড়ো হয়েছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
শাহবাগ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুন্নবী রায়হান জানান, জুলাই মাসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণমিছিল আয়োজনে শনিবার বিকেলে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুলবাড়িয়ায় জমায়েত হন। সেখানে তারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
রায়হানের ভাষ্য, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে গুলিস্তান এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করছে। কিছুদিন আগে তারা তালা দিয়ে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তাই গণমিছিলের কর্মসূচির সঙ্গে ফুলবাড়িয়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল আহ্বান করা হয়। রায়হানের অভিযোগ, এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা করে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে তিনজন গুরুতরসহ ১৫ জন আহত হন। তাঁদের নেতা কবির আহমেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আবা/এসআর/২৬
