বিএনপি-আ. লীগ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নড়াইল, নিহত ১
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

নড়াইলের লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মিরচাঁন সরদার (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মিরচাঁন ওই গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, কোটাকোল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আজমল মুন্সি ও বর্তমান ইউপি সদস্য কালাম মুন্সি সমর্থিত গ্রুপের সঙ্গে কোটাকোল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা এবং হিরাঙ্গীর মোল্যা সমর্থিত গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল।
ইউপি সদস্য কালাম মুন্সির অভিযোগ, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মিরচাঁন বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্যার নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় মিরচাঁনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে মাদারীপুরের পাঁচচর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে একই ঘটনায় সালাম মুন্সি নামে আরও এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া সংঘর্ষে খাজা সরদার, সিয়ামিন সরদার ও সারফিনা বেগমসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তারা লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মাটিয়াডাঙ্গা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
