পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে: আনসার মহাপরিচালক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬’-কে সামনে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর নিরপেক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় যশোর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার নির্বাচন প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে উপস্থিত সদস্যদের ডিজিটাল জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে বাহিনী প্রধান সরাসরি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সমাবেশে মহাপরিচালক বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশের নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথম সারির প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে অভিহিত করেন।
উপস্থিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের কল্যাণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য যদি অটল পাহাড়ের ন্যায় যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও হুমকি প্রতিহত করতে সক্ষম হন, তবেই জাতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।”
নির্বাচনী নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মহাপরিচালক জানান, ভোটকেন্দ্রে কোনো অবাঞ্ছিত আচরণ পরিলক্ষিত হলে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপস’-এর মাধ্যমে দায়িত্বরত দুজন সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রদান করবেন, যাতে সংশ্লিষ্ট টহল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং সরাসরি ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে ‘এসটিডিএমএস (STDMS)’ সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে বৈধ মিডিয়া, পর্যবেক্ষক ও অফিসিয়াল শনাক্তকরণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে ক্যামেরা সংযুক্ত করে মাঠ পর্যায়ের শৃঙ্খলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মহাপরিচালক বলেন, “নির্বাচনী দায়িত্ব আমাদের কাছে একটি পবিত্র আমানত। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা পরিচয়-অপরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কল্যাণের যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, তার পূর্ণ বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য উৎসবমুখর নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য ও সদস্যা সরাসরি নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন। পারস্পরিক সমন্বয়, আধুনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতার মাধ্যমে এই বিশাল বাহিনী নির্বাচনী ইতিহাসে একটি শক্তিশালী ও মৌলিক ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সমাপনী বক্তব্যে মহাপরিচালক একটি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
