স্বাধীনতা দিবসে বিএমইউর নানা কর্মসূচি, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

নানা আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, এ ব্লকের দ্বিতীয় তলায় বিএমইউর ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ইত্যাদি।

এছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ জিয়ার মাজার-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক বীরউত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া-এর সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বিএমইউ প্রশাসন।

এসময় বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেন। পরে বিএমইউ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ সকালে বিএমইউ ক্যাম্পাসে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। এসময় সম্মানিত প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ মনির হোসেন খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আয়েশা খাতুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএমইউর মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, অফিস প্রধান, শিক্ষক, সহকারী প্রক্টর, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, স্বাধীন হয়েছে বলেই বাংলাদেশ আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশে এখন গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন সময় ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার। সেই লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

এসময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য পূরণ হবে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই নারীদের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষপূর্তিতে আমাদের প্রত্যাশা—নারী-পুরুষসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত ও মর্যাদার উচ্চ শিখরে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের আলোর পথে আবার চলতে শুরু করেছে। এই পথেই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সব খাতে নতুন সাফল্যের সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএমইউর উদ্যোগে আয়োজিত এ সকল কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ, ড্যাবের উপদেষ্টা ও বিএমইউর ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন) ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম নওরোজ, চিকিৎসক ডা. আকবর হোসাইন, উপ-রেজিস্ট্রার সাবিনা ইয়াসমিন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হুমায়ুন কবীর, কর্মকর্তা জিসান উদ্দিন আহমেদ, মোঃ ইলিয়াছ খাঁন প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

এরপর বিএমইউ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিএমইউ ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদের সঞ্চালনায় ড্যাব নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এসময় বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক। তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বিভিন্ন জাতীয় দিবস ছাড়াও দুর্যোগ ও সংকটকালে সময়োপযোগী কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মতো মহতী উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়।