অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে তিতাসের অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

দেশজুড়ে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার শনাক্তকরণ ও সংযোগ বিচ্ছিন্নে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন পিএলসি। সাম্প্রতিক অভিযানে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পাইপলাইন জব্দ এবং জরিমানা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
গতকাল (৩০ মার্চ) মুন্সীগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্বে দূর্গাবাড়ি, গোসাইবাগসহ তিনটি স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়।
এ সময় আনুমানিক ১৩৪টি ডাবল চুলার অবৈধ আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ১৫০ ফুট জি.আই পাইপ ও ১১টি রেগুলেটর জব্দ করা হয়। অভিযানে ১৬ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়।
একই দিনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায়ের নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন এলাকায় দুটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। এতে দুটি নামবিহীন তার কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ১২ ফুট জি.আই পাইপ ও তিনটি বুস্টার জব্দ করা হয়। এই অভিযানের ফলে মাসিক প্রায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ২৫৭ টাকার গ্যাস সাশ্রয় হয়েছে।
এছাড়া খোলামোড়া এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে মাটির নিচে লাল টেপ পেঁচানো এমএস পাইপ উদ্ধার করে তা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিলের নেতৃত্বে দুইটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। নয়াপুর বাজার সংলগ্ন সাদীপুর, নাজিমুদ্দিন কলেজ সংলগ্ন এলাকা এবং বন্দর অঞ্চলে পরিচালিত অভিযানে দুটি অবৈধ চুনা কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
পাশাপাশি প্রায় দুই কিলোমিটার প্লাস্টিক পাইপের লাইনের আওতায় থাকা ৩০০টি আবাসিক চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ৭০ ফুট এমএস পাইপ, ২৬টি ভাট্রি বার্নার এবং তিন হাজার ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করা হয়।
একই দিনে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফাহিম শাহরিয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ১২টি বাড়ির ১১৫টি ডাবল এবং একটি সিঙ্গেল চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এছাড়া অনুমোদনের অতিরিক্ত চুলা ব্যবহারের কারণে আরও ১১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ৩০০ ফুট জি.আই পাইপ ও ২১ ফুট এমএস পাইপ জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় শিল্প গ্রাহকদের বকেয়া আদায়ে পৃথক দুটি টিম কাজ করে। এতে গ্রামীণ নীটওয়্যার লি., সিএমসি কামাল টেক্সটাইল মিলস লি., লোটাস কামাল নীটওয়্যার লি., এলকে ইউনিটেক্স কো. লি., এইচ.আর টেক্সটাইল লিমিটেড এবং মঙ্গল বেকারির গ্যাস সংযোগ বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
একই সঙ্গে ন্যাশনাল বেভারেজ, স্নো হোয়াইট কটন লিমিটেড ও রেদোয়ান প্যাকেজিংয়ের গ্যাস সরবরাহ বন্ধে আউটলেটে সিল স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়াও মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগের আওতায় কদমতলী এলাকার গিরিধারাসহ পাঁচটি স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে রাকি চানাচুর (ভাই ভাই ফুড প্রোডাক্টস), এন থ্রী ওয়াশিং, বিসমিল্লাহ ফুড, মীনার স্পেশাল বেকারী ও শাহ শরীফ লন্ড্রি ওয়াশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এ সময় ৩৫০ ফুট জি.আই পাইপ, তিনটি বুস্টার, পাঁচ ফুট এমএস পাইপ, ১০০ ফুট হোস পাইপ ও দুটি ওভেন রেগুলেটর জব্দ করা হয় এবং এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস ব্যবহার রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
