বিএমইউকে চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবায় রোল মডেল করার প্রত্যাশা উপাচার্যের
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মব্যস্ত দিনগুলোতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বিএমইউকে চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবায় একটি রোল মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় উপাচার্য বলেন, উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রোগীদের সর্বোচ্চমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টরসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে উপাচার্য সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বেইজমেন্টে স্থাপিত দেশের প্রথম অত্যাধুনিক এআই-ভিত্তিক রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। চিকিৎসক, নার্স ও ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সেন্টারের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপাচার্য বলেন, এই রোবোটিক সেন্টার দেশের পুনর্বাসন চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চীন সরকারের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এ সেন্টারে স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানে মোট ৬২টি যন্ত্রের মধ্যে ৫৭টি রোবট এবং ৫টি ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেনিং বেড রয়েছে।
এর মধ্যে ২২টি রোবট সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর, যা ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে রোগীর স্নায়ু পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
গেইট ট্রেনিং রোবটসহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীদের হাঁটার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার, হাত-পায়ের কার্যক্ষমতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘসময় ক্লান্তিহীন থেরাপি প্রদান সম্ভব হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের এই প্রকল্পের যন্ত্রপাতি চীন সরকারের অনুদানে এসেছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়ও অংশ নেন উপাচার্য। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এমপি।
এর আগে সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রথম কর্মদিবসে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা বিএমইউকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উপাচার্যও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, আইসিইউ সেবার উন্নতি এবং সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
