অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের জীবনাদর্শ অনুসরণীয়: বিএমইউর স্মরণসভা

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত এ স্মরণসভায় বক্তারা তাকে সৎ, সাহসী, নির্ভীক ও আপসহীন ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন সংগ্রামী মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন।

বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের জীবন ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

তারা স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি, বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্মরণসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এবিএম ছফিউল্লাহ।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ ও জনমানুষের চিকিৎসক ছিলেন। তিনি আজীবন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং রাজপথের একজন সংগ্রামী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার গুরুত্ব অনন্য এবং এ ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে না পারলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণে রাখার আহ্বান জানান এবং অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন প্রাণবন্ত, ইতিবাচক ও পরোপকারী মানুষ। চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ সালে ইন্তেকাল করেন। তিনি বিএমইউর চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগের একজন সুনামধন্য শিক্ষক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

চিকিৎসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন।