সংবিধান সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাবিতে সিবিএস-এর আলোচনা সভা

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর. সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে আজ শনিবার বিকেল ৪টায় ‘সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ’-এর উদ্যোগে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভার শুরুতে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক রাশিদুল হক তিমুর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে গণহত্যা ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত হলে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ সহজ হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থার ভিত্তি ছিল বাহাত্তরের সংবিধান। তিনি দাবি করেন, এ রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতেই জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণেরা আত্মত্যাগ করেছেন।

তিনি জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, দেশের ভেতরে সংঘটিত এ ধরনের হত্যাযজ্ঞ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত হলে তাকে ‘স্টেট স্পন্সরড টেররিজম’ বলা হয়। তিনি আর্জেন্টিনা ও চিলির সামরিক শাসনামলের ঘটনাগুলোর উদাহরণও তুলে ধরেন।

ড. দিলারা চৌধুরী ট্রানজিশনাল জাস্টিসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি না থাকলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়। মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে আগে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের অন্য নাগরিকরা কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছিল। এ বাস্তবতা থেকেই জুলাই বিপ্লবের জন্ম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন ও সংস্কারকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, দলটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিচার ও সত্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুনর্মিলনভিত্তিক উদ্যোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ক) সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত বিডিআর হত্যাযজ্ঞের বিচার ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, তদন্তে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিডিআর হত্যাযজ্ঞে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত কমিশন কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের সংবিধান সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ইতিহাসে খুব কম সময়ই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ আসে। জুলাই অভ্যুত্থান সেই সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বিচার, সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।