এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জের ৫ বিজয়ী প্রকল্পের নাম ঘোষণা

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

এলজি ইলেকট্রনিক্স সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। দেশব্যাপী নির্বাচিত পাঁচটি সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প এ বছরের জন্য বিজয়ী হিসেবে মনোনীত হয়েছে।

শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই জীবিকা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে নির্বাচিত উদ্যোগগুলো। প্রকল্পগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান করবে এলজি।

১৮ আগস্ট ২০২৬ ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এলজি জানায়, নির্বাচিত পাঁচটি সামাজিক উদ্যোগ বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে উদ্ভাবনী ও কার্যকর সমাধান দেওয়ার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর পর থেকে এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ সমাজের বিভিন্ন সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে উদ্ভাবনী চিন্তাধারার ব্যক্তিদের উৎসাহিত ও ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। আর্থিক অনুদান, দিকনির্দেশনা ও ধারাবাহিক সহায়তার মাধ্যমে কর্মসূচিটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে বাস্তব সামাজিক পরিবর্তনে রূপ দিতে সহায়তা করে আসছে।

বিজয়ী পাঁচ প্রকল্প

২০২৬ সালের এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জের বিজয়ী প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারের ‘কোস্টাল লাইফলাইন’। মিনহাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগ-ঝুঁকিতে থাকা ও অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করবে।

সিরাজগঞ্জের ‘অ আ ক খ স্কুল’ প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন মো. আবদুল্লাহ রনি। উদ্যোগটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবে।

সাতক্ষীরার ‘উপকূল অঞ্চলের নিরাপত্তা/ভিএএন প্রজেক্ট’ পরিচালনা করবেন মো. হাবিবুল্লাহ আল মামুন। প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে কাজ করবে।

খুলনার ‘সুন্দরবনের নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন’ প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন শুভ কুমার ঘোষ। নারীদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই আয়ের সুযোগ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।

রাজশাহীর ‘প্রজেক্ট উদয়’ পরিচালনা করবেন সাবরিনা হক। প্রকল্পটি স্থানীয় অসচ্ছল পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক জীবনমান বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

বাস্তবায়নে থাকবে এলজির সহযোগিতা

এলজি জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বিজয়ী অ্যাম্বাসেডরদের সঙ্গে পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে সর্বোচ্চ ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

এলজি ইলেকট্রনিক্স সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের ব্রাঞ্চ লিডার Sungho Chun বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ শুরু হওয়ার পর থেকে অসংখ্য সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে সহায়তা করা হয়েছে, যা সমাজে অর্থবহ ও দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, ‘Life’s Good’ শুধু একটি ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি নয়; এটি মানুষের জীবনকে আরও ভালো করার প্রতি এলজির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পরিবর্তনসাধকদের ক্ষমতায়ন এবং টেকসই সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাবে এলজি।

এলজি জানিয়েছে, উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচি, যা সমাজের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করা উদ্ভাবনী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের উৎসাহিত ও সহায়তা করে।

তৃণমূল পর্যায়ের উদ্ভাবনী উদ্যোগে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক মূল্য সৃষ্টি করে এমন প্রকল্পগুলোকে সমর্থনের মাধ্যমে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শক্তিশালী ও টেকসই সমাজ গঠনে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে এলজি। এভাবেই বাংলাদেশে ‘Life’s Good’ দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।