দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, বিএডিসির বেতন স্কেল ভেটিং সম্পন্ন
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০২ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বেতন স্কেল ভেটিং সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘদিনের চাকরির বিধিমালা ও বেতন কাঠামোর জটিলতা নিরসন এবং সুনির্দিষ্ট বেতন গ্রেড নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ করেছেন।
তার সিদ্ধান্তের ফলে বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত স্কেল ভেটিং বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে।
বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের কৃষি ও কৃষকের দোরগোড়ায় মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সার সরবরাহ এবং আধুনিক সেচ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে বিএডিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএডিসি নিজস্ব আইন ও অনুমোদিত প্রবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে।
বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি করেন, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে ৪ হাজার ৬৯৯টি পদের বেতন গ্রেড বিদ্যমান আইন ও প্রজ্ঞাপনের পরিপন্থীভাবে এক ধাপ অবনমন (ডাউনগ্রেড) করার পাশাপাশি কিছু নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতির শর্ত জুড়ে দেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। এ সময় কর্মবিরতি, মানববন্ধনসহ শান্তিপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
বক্তব্যে আরও জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সাবেক এক সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিএডিসির জন্য ১০ হাজার জনবলের একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিএডিসির জন্য ৯ হাজার ৩৫৫ জন জনবল অনুমোদন করে।
তবে স্কেল ভেটিংয়ের সময় অনুমোদিত পদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে ৫ হাজার ২১৮ জনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর মধ্যে ৫১৯টি পদের স্কেল ভেটিং হয়নি।
সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষি সচিব ও অর্থ সচিবের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ৫১৯টি পদের স্কেল ভেটিং সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়।
পূর্ণাঙ্গ পেনশন ব্যবস্থা চালুর দাবি
বিএডিসিতে বর্তমানে পেনশন ব্যবস্থা চালু না থাকার বিষয়টিও সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার, বীজ ও সেচের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিজমিতে সেচের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিএডিসি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও বিএডিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পাটবীজ ও পেয়ারাবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশের কৃষি উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পূর্ণাঙ্গ পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের পাশাপাশি জনবল ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট পদ যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতি, বিএডিসি প্রকৌশল সমিতি, বিএডিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিবিএসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও কর্মচারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্দোলনে সহযোগিতা ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
