তেজগাঁওয়ের বিটিসিএলে যুবক আটক নিয়ে আনসারের ব্যাখ্যা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটক করে আনসার সদস্যদের পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাহিনীটি জানায়, গণমাধ্যমে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, বাহিনী কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে তেজগাঁও টি অ্যান্ড টি তার ভান্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক অনুপ্রবেশ করে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহজামাল এক যুবককে চুরি করতে দেখে তাকে ধাওয়া করেন। পুরোনো টিনের চালের ওপর দিয়ে দৌড়ানোর একপর্যায়ে ওই যুবক চাল ভেঙে নিচে পড়ে যান।

পরে তাকে উদ্ধার করে বিটিসিএল সংস্থার স্টাফ মো. শওকত হোসেন আটক করেন। সংস্থার টেলিফোনিক নির্দেশে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করতে সহযোগিতা করেন।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের মধ্যে পিসি নুরুল ইসলাম আটক যুবককে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পি.ও. সুলতান মাহমুদ এবং ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে আনসার সদস্যরা আটক যুবককে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছেন এবং এর ফলে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তবে বাহিনীটির দাবি, এর সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই। যুবককে আনসার সদস্যরা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন বা মারধর করেছেন—এমন তথ্যেরও কোনো ভিত্তি নেই।

এ অবস্থায় আনসার সদস্যদের মাধ্যমে আহত যুবককে হাসপাতালে নেওয়ার যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, সেটিকেও নিতান্তই অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বাহিনীটি জানায়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আইন, বিধি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। কোনো স্থাপনায় নিরাপত্তা ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মূল কর্তব্য। এ ক্ষেত্রেও আটক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, নির্যাতন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকে প্রশ্রয় দেয় না। একই সঙ্গে কোনো ঘটনা যাচাই-বাছাই ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা হলে তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।