পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কর্মশালা
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) আয়োজনে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কর্মশালাটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
কর্মশালায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান (রতন), অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাছির উদ্দিন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এছাড়া ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অডিট আপত্তির সংখ্যা শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
এ লক্ষ্যে পুরোনো অডিট আপত্তিগুলো ধীরে ধীরে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে যাতে কোনো আপত্তি না আসে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রতিবছর অডিট আপত্তির সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর বৃদ্ধির হার গত বছরের চেয়েও বেশি। বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এলে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে না। আমাদের এই মুহূর্তের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আমরা শূন্য অডিট আপত্তিতে পৌঁছাতে চাই।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সংজ্ঞাগতভাবেই একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এর প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত একাডেমিক স্বাধীনতা ভোগ করে; প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা পুরোপুরি ভোগ করতে পারে না।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আর্থিক স্বাধীনতা নিজ উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ এবং সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ শৃঙ্খলার সঙ্গে আইন ও বিধিবিধান মেনে ব্যয় করা এবং সেই ব্যয়ের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারার ওপর নির্ভর করে। সরকার আইন ও বিধি তৈরি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় তা বাস্তবায়ন করে। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউজিসি মূলত সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।
নিয়োগ, পদোন্নতি ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অতীতের অনিয়মের কারণে তৈরি জটিলতা নিয়মের মধ্যে থেকে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এখন থেকে নতুন কোনো অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বর্তমান বাজেট বা উন্নয়ন বরাদ্দের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে সরকার, সমাজ ও রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আস্থা রাখবে। তখন অর্থায়ন কোনো বড় সমস্যা হবে না। শুধু আস্থা অর্জন করলেই হবে না, জনগণের কাছে সেই আস্থা দৃশ্যমান করতে হবে।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন বলেন, দেশে ৬০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টির কার্যক্রম চলমান। এ কর্মশালা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সরকারের অগ্রাধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।
তিনি যৌক্তিক চাহিদা দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি আইন, বিধি ও প্রবিধান মেনে চলার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক।
এ ছাড়া অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং একই বিভাগের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক ও মো. হাফিজুর রহমান বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন।
