বিএফআইডিতে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফআইডিসি) এক সহ-নিরীক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাবার চুরি, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা নুরুল কবির। তিনি বঙ্গবন্ধু গবেষণা ও সমন্বয় পরিষদের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৩ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত সহ-ব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. ফজলুল হক।

অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএফআইডিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

রাবার পাচার ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে কর্ণফুলী রাবার বাগান থেকে আনুমানিক ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ টন রাবার কারখানার সীমানার বাইরে পাচার করা হয়। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন নুরুল কবির বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে রাবার চুরির ঘটনায় সাব্বির জামান রাসেল ও বিজন কুমার ভৌমিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাগান ব্যবস্থাপকের অনুপস্থিতি ও যোগসাজশের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে তাকে স্বপদে বহাল রাখা এবং সাব্বির জামান রাসেলকে চট্টগ্রামে লুকিয়ে রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অডিটের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

অভিযোগপত্রে নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে বিএফআইডিসির বিভিন্ন শিল্প ইউনিটের ব্যবস্থাপকদের অডিটের ভয় দেখিয়ে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলে বিএফআইডিসির সদর দপ্তরের তৃতীয় তলায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফাইল গোপন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অভিযোগে নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলার দাবি করা হয়েছে। এতে বিএফআইডিসির ব্যবস্থাপক (হিসাব) ফৌজিয়া জাফরীন এবং সিএমপি মিরপুরের সহ-হিসাব কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু গবেষণা ও সমন্বয় পরিষদের কমিটিতে ফৌজিয়া জাফরীন সহসভাপতি এবং জহুরুল ইসলাম নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সাবেক প্রকৌশলী তুষার কান্তি সরকারের কাছে কর্পোরেশনের পাওনা এক লাখ টাকা আদায় না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সাবেক ব্যবস্থাপক মোকবুল হোসেনের দুর্নীতিসংক্রান্ত ফাইল গোপন করার শর্তে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে। এ কাজে ব্যবস্থাপক (পার্সোনাল) মো. আব্দুল বাকী সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইভাবে সাবেক ব্যবস্থাপক জামিল আক্তার বকুলের কাছ থেকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে দুর্নীতির প্রমাণ গোপন করে দেনা-পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পে-স্কেল ফিক্সেশনের নামে ১৭ জন কর্মচারীর কাছ থেকে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে ফৌজিয়া জাফরীন তাকে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

দুদক ও মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দাবি

অভিযোগে নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দাবিও করা হয়েছে। কখনো বিএনপি, আবার কখনো জামায়াতের লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ উল্লেখ করে বিষয়গুলোর তদন্ত দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

বিএফআইডিসির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হবে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।