৯ মাসে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা বেড়েছে ৫৬ শতাংশ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ৫৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে নিম্নপর্যায়ে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক সূচকগুলোতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের ২৫০তম সভায় তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ, অগ্রিম ও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ১১ শতাংশ বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা।

এ প্রবৃদ্ধিতে টেকসই অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণ বিতরণের ৮৩ শতাংশ ছিল সবুজ ও টেকসই অর্থায়ন। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৭৫ শতাংশ। পরিবেশবান্ধব ও সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবসায় ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির এ অগ্রগতি বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ননীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক আমানত ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত বৃদ্ধিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ আমানত প্রবাহ প্রতিষ্ঠানের তহবিলের ভিত্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

আর্থিক ফলাফল প্রসঙ্গে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবুল আহসান বলেন, “বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কম থাকা সত্ত্বেও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অব্যাহতভাবে পাশে থেকেছে। জোরদার ডিউ ডিলিজেন্স ও সুশাসনের ফলে ঋণ কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের পোর্টফোলিওর মানও উন্নত হয়েছে। আমানতে ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আমাদের প্রতি গ্রাহকদের আস্থারই প্রতিফলন। আমরা এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে চাই।”

প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তিও শক্তিশালী রয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিএআর) ছিল ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ১০ শতাংশের চেয়ে বেশি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাহিদার অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তারল্য বজায় রেখেছে। এর ফলে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুত রয়েছে।