ফ্যাশনে ও প্রয়োজনে স্মার্টওয়াচ

হাতঘড়ির সূচনা মূলত মানুষের প্রয়োজনের তাগিদেই। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় হাতঘড়ি শুধু আর সেই গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফ্যাশন, সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব ও আভিজাত্যের এক নান্দনিক প্রতীক হয়ে ওঠে এটি। নারী-পুরুষ উভয়ের হাতেই শোভা পেতে থাকে নানা ডিজাইনের ডায়ালযুক্ত ঘড়ি। তবে পরবর্তীতে বাজারে স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তৃতি ও পকেটে ডিভাইসের সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ হাতঘড়ির ব্যবহার কিছুটা কমে যায়। লিখেছেন- জাকিয়া সুলতানা জুঁই

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্মার্টওয়াচ : সহজ কথায়, স্মার্টওয়াচ হলো একটি মিনি কম্পিউটিং সিস্টেম বা হাতের মুঠোয় থাকা কম্পিউটারের ছোট্ট সংস্করণ। একে স্মার্টফোনের পরিপূরক বা ছোট রূপও বলা চলে, কারণ বর্তমান প্রজন্মের স্মার্টওয়াচে ফোনের প্রায় অধিকাংশ ফিচারই যুক্ত করা হয়েছে। অপারেটিং সিস্টেমচালিত এসব ঘড়িতে এখন অডিও-ভিডিও প্লেব্যাক, ক্যামেরা, এফএম রেডিও, ব্লুটুথ, জিপিএস, ইন্টারনেট এবং ওয়াইফাইয়ের মতো আধুনিক সব প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আপনার স্মার্টফোনের সঙ্গে ব্লুটুথ বা ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ঘড়িটি যুক্ত করে নিলেই ফোনের মতো কল রিসিভ করা কিংবা মেসেজ আদান-প্রদান করা সম্ভব। পাশাপাশি হৃদস্পন্দন (হার্ট রেট) পর্যবেক্ষণ, ঘুমের ধরণ ট্র্যাক করা, শরীরচর্চা মনিটরিং এবং দৈনন্দিন জীবনকে আরও গতিশীল ও সহজ করতে এটি দারুণভাবে সাহায্য করছে।

কাস্টমাইজযোগ্য স্ট্র্যাপ বা আকর্ষণীয় স্ক্রিন ডিজাইনের কারণে এটি সব বয়সি মানুষের দৈনন্দিন রুটিন ও ফ্যাশনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। এটি যেমন আপনার ব্যক্তিত্বে আনে আভিজাত্যের ছোঁয়া, তেমনি একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ জীবনযাপনেও অনন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। স্মার্টওয়াচ কেবল একটি গ্যাজেট নয়, এটি আপনার লাইফস্টাইলকে করে তুলতে পারে আরও স্মার্ট ও গোছানো।

স্টাইলিশ লুক : বাজারে প্রচলিত নামিদামি ব্র্যান্ডের সাধারণ এনালগ বা কোয়ার্টজ ঘড়ির তুলনায় অনেক সময় সাশ্রয়ী মূল্যে দারুণ সব ফিচারসমৃদ্ধ স্মার্টওয়াচ পাওয়া যায়। স্মার্টওয়াচের দাম মূলত এর ভেতরের প্রযুক্তিগত ফিচারের ওপর নির্ভর করে, ফলে বাহ্যিক সৌন্দর্য বা প্রিমিয়াম ডিজাইনে খুব একটা তারতম্য থাকে না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেলিব্রিটি- সবাই এখন রুচি ও প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের স্মার্টওয়াচটি।

ফোনের আসক্তি কমানো : বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্তও চলা যায় না। তবে স্ক্রিনটাইম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে তৈরি হচ্ছে মোবাইল আসক্তি। এ সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান হতে পারে স্মার্টওয়াচ। আপনার জরুরি নোটিফিকেশন, কল বা অ্যালার্টগুলো এতে কাস্টমাইজ করে নিলে বারবার পকেট বা ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন বের করার প্রয়োজন পড়ে না। এতে একদিকে যেমন- অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনটাইম কমে, অন্যদিকে বাঁচে উল্লেখযোগ্য সময়।

স্বাস্থ্য সচেতনতা : একটি সুস্থ ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনধারার জন্য ফিটনেস সচেতনরা এখন স্মার্টওয়াচ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন। সকালে হাঁটার সময় আপনার কত ক্যালোরি বার্ন হলো, কতগুলো স্টেপ বা পা হাঁটলেন কিংবা ঠিক কত দূরত্ব অতিক্রম করলেন- তার নিখুঁত হিসাব দেয় এটি। এ ছাড়া ব্যায়ামের সময় আপনার হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দনের গতি স্বাভাবিক রয়েছে কি না, তা মনিটরিং করে আপনাকে সতর্ক করতে সাহায্য করে।

ঘুমের গুণগত মান বিশ্লেষণ : সুস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম। অনিয়মিত ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্মার্টওয়াচের স্লিপ ট্র্যাকিং ফিচারের মাধ্যমে আপনি রাতে কতক্ষণ ঘুমিয়েছেন এবং ঘুমের মাঝে কতবার আপনার ঘুম ভেঙেছে বা নড়াচড়া হয়েছে, তার একটি নির্ভরযোগ্য রেকর্ড থেকে যায়। এ ডেটা পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছেও বেশ কাজে লাগে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা : আধুনিক অনেক স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারীর শরীরের জরুরি পরিস্থিতি, যেমন—হঠাৎ হার্ট রেট অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া বা হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিক বিচ্যুতি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। এমনকি অনেক মডেলে তাৎক্ষণিক ইসিজি করার সুবিধাও রয়েছে। ব্যবহারকারী কোনো কারণে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক স্মার্টওয়াচের সেন্সর তা দ্রুত আঁচ করে জরুরি সংকেত পাঠাতে পারে।

জিপিএস ট্র্যাকিং : বর্তমানের স্মার্টওয়াচগুলোতে বিল্ট-ইন জিপিএস বা লোকেশন ট্র্যাকার থাকে। ফলে অচেনা বা অজানা গন্তব্যে যাতায়াতের সময় বারবার পকেট থেকে মোবাইল বের করার ঝামেলা বা ঝুঁকি থাকে না। ঘড়ির স্ক্রিনেই রুট বা নেভিগেশন দেখে খুব সহজে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যায়।

হারিয়ে যাওয়া ফোন খুঁজে পাওয়া : অনেক সময় তাড়াহুড়োয় মোবাইল ফোনটি ঘরের কোথায় রেখেছি তা ভুলে যাই এবং আতঙ্কিত হয়ে এদিক-সেদিক খুঁজতে শুরু করি। কিন্তু আপনার স্মার্টওয়াচটি যদি ফোনের সঙ্গে কানেক্টেড থাকে, তবে ঘড়ির ‘ফাইন্ড মাই ফোন’ ফিচারে ট্যাপ করলেই ফোনে রিং বেজে উঠবে। এটি সহজেই আপনার হারিয়ে যাওয়া বা লুকিয়ে থাকা ফোন খুঁজে পেতে সাহায্য করে।