পোশাকে উৎসবের আমেজ

শারদ মানেই শরতের শুভ্রতা, কাশফুলের দোলা আর উৎসবের রঙে নিজেকে নতুন করে সাজানো। উৎসবের আনন্দে পোশাকেও থাকে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া ও নান্দনিকতার প্রকাশ। নিজের পছন্দ ও ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতেও থাকে নানা আয়োজন। দেশীয় পোশাকের খবর জানাচ্ছেন— মুনিয়া আক্তার

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, হাওয়ায় দুলতে থাকা কাশফুল আর শিউলির সুবাসে ফিরে আসে শারদীয় উৎসবের চেনা অনুভূতি। আপনজনের সঙ্গে দেখা ও নতুন পোশাকে সেজে ওঠার অপেক্ষায় অন্য রকম হয়ে ওঠে দিনগুলো। সেই অপেক্ষা ও আনন্দকে পোশাকের রঙে ফুটিয়ে তুলতে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো বরাবরই নতুন পোশাকের সংগ্রহ নিয়ে আসে। সেই ধারবাহিকতায় রঙ বাংলাদেশ সাজিয়েছে বিশেষ আয়োজন। এবারের আয়োজনের মূল প্রেরণা নেপালি উড কার্ভিং বা নেপালের ঐতিহ্যবাহী কাঠখোদাই শিল্প।

নেপালের কাঠখোদাইয়ের ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কারুশিল্পীদের হাতে সমৃদ্ধ হয়েছে। মন্দির ও প্রাচীন স্থাপত্যের কাঠের কাজে ধরা পড়ে তাদের সূক্ষ্ম শিল্পবোধ। রেখার বিন্যাস, অলংকরণের ছন্দ আর খোদাইয়ের গভীরতা এ শিল্পকে দিয়েছে নিজস্ব পরিচয়। সেই শিল্পভাষা থেকেই রঙ বাংলাদেশ খুঁজে নিয়েছে এবারের উৎসবের পোশাকের নকশা ভাবনা।

কাঠের গায়ে ফুটে ওঠা কারুকাজকে কাপড়ের উপযোগী নকশায় প্রকাশ করাই এ সংগ্রহের বিশেষ আকর্ষণ। ঐতিহ্যবাহী অলংকরণের ছন্দ ও বিন্যাসকে রঙ বাংলাদেশের নিজস্ব নকশা ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো হয়েছে পোশাকগুলো। কোথাও নকশার বিস্তারে উৎসবের উচ্ছ্বাস, কোথাও পরিমিত কারুকাজে স্নিগ্ধতা। শিল্পের অনুপ্রেরণার সঙ্গে পরার উপযোগিতা ও আধুনিক রুচির সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এই আয়োজন।

নেপালি কাঠখোদাইয়ের পাশাপাশি সংগ্রহে রয়েছে দুর্গাপূজার প্রতীক ও উৎসবের আবহ থেকে অনুপ্রাণিত নকশা। শারদ উৎসবের প্রতিটি দিনের অনুভূতিকে নিজের সাজে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে এ সংগ্রহে।

রঙ বাংলাদেশের এবারের আয়োজনের বড় আকর্ষণ পরিবারের একসঙ্গে সাজার পোশাক। 'কারু গল্প', 'রাঙাবৃত্ত' ও 'শরৎরঙ'-এর মতো অসংখ্য ফ্যামিলি সিরিজে একই নকশা ভাবনায় সাজতে পারবেন পরিবারের ছোট-বড় সদস্যরা। শিশু, তরুণ-তরুণী, বাবা-মা ও প্রবীণদের পোশাকে রঙ ও নকশার মিল একসঙ্গে উদযাপনের আনন্দকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে। পাশাপাশি রয়েছে ডুয়েট, কাপল ও ম্যাচিং সিরিজ। পারিবারিক আড্ডা কিংবা উৎসবের ছবি— প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিয়ে পরা পোশাক হয়ে উঠবে সুন্দর স্মৃতির অংশ।

নারীদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও সিঙ্গেল কামিজের পাশাপাশি পুরুষদের জন্য রয়েছে উৎসবের পাঞ্জাবি এবং সঙ্গে মিলিয়ে পরার ধুতি-পায়জামা। ছোটদের সাজেও থাকছে পূজার রঙ ও নকশার আনন্দ। বয়স, ব্যক্তিগত পছন্দ ও আয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়া যাবে নিজের পোশাক; আবার একই পরিবারের সদস্যরা নিজেদের রুচি বজায় রেখেও মিলিয়ে সাজতে পারবেন।

কাপড় ও কারুকাজেও থাকছে বৈচিত্র্য। স্লাব কটনে স্ক্রিন প্রিন্ট, ভিসকসে ডিজিটাল প্রিন্ট ও হ্যান্ডওয়ার্ক, আবার জয় সিল্কে স্ক্রিন প্রিন্ট, হ্যান্ডওয়ার্ক ও এমব্রয়ডারি— পোশাকভেদে ব্যবহার করা হয়েছে ভিন্ন মাধ্যম। কোথাও প্রিন্টের রেখায় স্পষ্ট হয়েছে নকশা, কোথাও হাতের কাজ যোগ করেছে বাড়তি সৌন্দর্য। উৎসবের সাজে আরাম ও নান্দনিকতার সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়েছে রঙ বাংলাদেশ।

কেনাকাটার আনন্দে বাড়তি চমক যোগ করতে থাকছে 'ভাগ্যচক্র'। দেশীদশ ছাড়া রঙ বাংলাদেশের আউটলেটগুলোতে ২,০০০ টাকা বা তার বেশি কেনাকাটায় নির্ধারিত শর্তে এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাকা ঘুরিয়ে মিলতে পারে বিশেষ উপহার। এ ছাড়া উৎসবের কেনাকাটায় অর্থ পরিশোধের সুবিধা দিতে রয়েছে ইএমআই সুবিধা। রঙ বাংলাদেশের অনলাইন ও আউটলেটে ৫,০০০ টাকা বা তার বেশি কেনাকাটায় ইএমআই সুবিধা উপভোগ করতে পারবে সবাই। এ শারদীয় সংগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে দেশজুড়ে ২১টি আউটলেটে। ঘরে বসে পছন্দের পোশাক বেছে নিতে ভিজিট করা যাবে তাদের ওয়েবসাইটে।

দেশীদশ : শারদ উৎসবের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলতে বিশেষ সংগ্রহ নিয়ে হাজির হয়েছে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ দেশীদশ। দেশীয় ফ্যাশন, ঐতিহ্য ও কারুশিল্পকে এক ছাতার নিচে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে দেশীদশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় নকশা, তাঁতশিল্প ও সৃজনশীল ফ্যাশনচর্চাকে ক্রেতাদের কাছে আরও সহজলভ্য করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে স্থানীয় তাঁতি, কারুশিল্পী ও ডিজাইনারদের সৃজনশীলতাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতেও দেশীদশ পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।