ফিট শরীর, প্রফুল্ল মন

সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচতে শুধু রোগমুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; শরীরকে কর্মক্ষম এবং মনকে প্রফুল্ল রাখাও জরুরি। ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, অনিয়মিত খাবার ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু সহজ ও আনন্দদায়ক অভ্যাস যোগ করা দরকার। লিখেছেন— নাদিয়া আফরিন

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাবারে আনুন সচেতনতা : ফিট থাকার অন্যতম ভিত্তি সঠিক খাদ্যাভ্যাস। অতিরিক্ত তেল, ভাজাপোড়া, চিনি, লবণ, চর্বি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট যতটা সম্ভব কমানো উচিত। এসব খাবার নিয়মিত ও অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়ার পাশাপাশি শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে। ত্বকের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে ব্রণসহ নানা সমস্যা। এর পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় তাজা শাকসবজি, ফল, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন রাখুন।

পর্যাপ্ত পানি পান : শরীর ও মন সতেজ রাখার জন্য পানির বিকল্প নেই। পানি শরীরের কোষগুলোকে সতেজ রাখে এবং দেহের বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব ত্বকেও পড়ে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করুন। বাইরে বের হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন।

প্রতিদিন কিছুটা ঘাম ঝরান : ফিট থাকার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো বা ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সাইকেল চালিয়ে ঘুরে আসুন : শরীরচর্চাকে আনন্দদায়ক করতে সাইকেলের বিকল্প নেই। সাইকেল চালালে একদিকে শরীর সক্রিয় থাকে, অন্যদিকে মনও প্রফুল্ল হয়। নিয়মিত সাইকেল চালানো পেশি সক্রিয় রাখতে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি খরচে সহায়তা করে। সপ্তাহে কয়েক দিন সকালে বা বিকালে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন।

বই পড়ুন, মনকে সমৃদ্ধ করুন : মন ভালো রাখার অন্যতম সুন্দর উপায় বই পড়া। বই মানুষকে শুধু জ্ঞান দেয় না, চিন্তার জগতকেও প্রসারিত করে। প্রতিদিন খুব বেশি সময় বের করার প্রয়োজন নেই। রাতে ঘুমানোর আগে ১৫-২০ মিনিট কিংবা দিনের অবসর সময়ে কয়েক পৃষ্ঠা বই পড়ার অভ্যাস করা যায়।

ইতিবাচক চিন্তা করুন : সমস্যার মধ্যেও সম্ভাবনা খুঁজে নেওয়া এবং নিজের প্রতি আস্থা রাখার চেষ্টা করুন। অতীতের ভুল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলুন।

অন্যের উপকার করুন : অন্যের জন্য কিছু করা নিজের মন ভালো রাখারও একটি সুন্দর উপায়। পরিবারের কাউকে সাহায্য করা, অসুস্থ বন্ধুর খোঁজ নেওয়া, পথের মানুষকে সামান্য সহযোগিতা করা কিংবা অসহায় কারও পাশে দাঁড়ানো— ছোট কাজও অন্যের জীবনে বড় আনন্দ আনতে পারে।

পছন্দের গান শুনুন : শরীরের মতো মনেরও বিশ্রাম প্রয়োজন। পছন্দের গান শোনা হতে পারে তার সহজ একটি উপায়।

গানের পাশাপাশি ছবি আঁকা, বাগান করা, লেখালেখি কিংবা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজেও সময় দেওয়া যেতে পারে।

সুযোগ পেলেই ভ্রমণ : ভ্রমণ শুধু নতুন জায়গা দেখার বিষয় নয়, এটি মনকে নতুন করে সাজানোরও একটি সুযোগ। প্রতিদিনের একই রুটিন থেকে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে প্রকৃতির কাছে গেলে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। খুব দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কাছাকাছি কোনো নদীর পাড়, সবুজ গ্রাম, পাহাড়, সমুদ্র কিংবা পার্কেও কিছু সময় কাটানো যায়।

ঘুম ও বিশ্রামকে গুরুত্ব দিন : ফিট থাকার জন্য শুধু খাবার ও ব্যায়াম যথেষ্ট নয়; পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।

দিনের পর দিন কম ঘুম শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সম্ভব হলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করুন।

নিজের জন্য সময় রাখুন : আমরা অনেক সময় কাজ, পরিবার ও নানা দায়িত্বের মধ্যে নিজের জন্য সময় রাখতেই ভুলে যাই। অথচ সুস্থ থাকার জন্য নিজের পছন্দ ও আনন্দের বিষয়গুলোর জন্যও সময় দরকার। প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের মতো করে কাটান। হতে পারে সেটি বই পড়া, গান শোনা, হাঁটা, সাইকেল চালানো, বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা, অন্যের উপকার কিংবা কোনো নতুন জায়গায় ঘুরে আসা।