ত্বকের যত্নে ডাব
ডাবের পানি উপকারী সব সময়ই। শরীরের ভেতরের সুস্থতা তো বটেই, ত্বকচর্চাতেও দারুণ কার্যকর। ত্বক মসৃণ, আর ব্রণমুক্ত রাখতে ডাবের পানির জুড়ি নেই। এ ছাড়া ডাবের পানিতে আছে ভিটামিন সি, যা ত্বকের প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনে। লিখেছেন— নাদিয়া আফরিন
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাবের পানিতে আছে ভিটামিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ভেতর থেকে কোষকে পরিষ্কার করে এবং পুষ্টি জোগায়, পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। অন্যদিকে ডাবের পানি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। ত্বক মসৃণ, আর ব্রণমুক্ত রাখতে ডাবের পানির জুড়ি নেই। এ ছাড়া ডাবের পানিতে আছে ভিটামিন সি, যা ত্বকের প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনে।
যারা দীর্ঘসময় বাইরে থাকেন অথবা বাড়িতেই যাদের অন্দরমহলে কাটে দিনের লম্বা একটা সময়, তাদের ত্বকের সানবার্ন দূর করতে ডাবের পানি বেশ কার্যকর। এ ছাড়া বার্ধক্যের বলিরেখা কিংবা চামড়া কুঁচকে যাওয়া ভাব কমিয়ে আনতে আপনি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন ডাবের পানি। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন মুখ ধোয়ার পর তুলা দিয়ে অল্প পরিমাণ ডাবের পানি আপনি আপনার ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এর পাশাপাশি প্যাক তৈরি করতে মুলতানি মাটি, চন্দনের গুঁড়া আর ডাবের পানি মিশিয়ে মুখে অথবা হাত-পায়ের ত্বকে ব্যবহার করলে ভেতর থেকে ময়লা বাইরের ধুলাবালি দূর করে। তাই ত্বককে পরিষ্কার রাখতে আর উজ্জ্বলতা বাড়াতে সপ্তাহে অন্তত দুবার এ প্যাকটি ব্যবহার করুন।
যারা বাইরে থাকেন দিনের পুরোটা সময় তারা ফেইস মিস্ট হিসাবে ডাবের পানি স্প্রে বোতলে করে ব্যবহার করতে পারেন। চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে সমপরিমাণ ডাবের পানি আর সঙ্গে সমপরিমাণ আলুর রস মিশিয়ে একটি নরম তুলার প্যাডে ভিজিয়ে চোখে দশ মিনিট রেখে ধুয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায় অল্প দিনের মধ্যেই। তবে অনেকেরই সেনসিটিভ স্কিন হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে আগে ব্যবহার করে দেখে নেওয়াই ভালো, আর যেহেতু ত্বকের বিষয় সে ক্ষেত্রে সব সময় তাজা ডাবের পানি ব্যবহার করাই ভালো। ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করলেও তা যাতে দুই বা তিন দিনের বেশি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
সব ধরনের ত্বকের জন্যই ডাবের পানি বেশ কাজের। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মটরের ডাল ডাবের পানিতে ভিজিয়ে রেখে বেটে নিয়ে পুদিনা পাতার রস মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে হবে। এতে তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে ত্বকে উজ্জ্বলতা আসবে, সঙ্গে দূর হবে নানা দাগ।
শুষ্ক ত্বকের জন্য কাঠবাদাম ডাবের পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরে সেটা পেস্ট করে মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে হবে। এতে করে শুষ্কতা দূর হয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
ডাবের পানিতে পুদিনা পাতা ও তুলসী পাতার রস সমপরিমাণ মিশিয়ে আইসকিউব করে রাখতে পারেন। বাইরে থেকে ফিরে আইসকিউব ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সতেজতা বৃদ্ধি পাবে।
ডাবের পানি দিয়ে বডি স্ক্র্যাব তৈরি করতে পারেন। ডাবের পানিতে গম ভিজিয়ে রেখে সেটা পিষে নিন। পুরো শরীরে লাগালে শরীরের মরা কোষগুলো দূর হবে। একটা ডাবের পানিতে গোলাপ পাপড়ি, পুদিনা পাতা আর তুলসী পাতা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। পরে সেটা ব্লেন্ড করে নিন। এটা তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। যখন প্রয়োজন হবে তার সঙ্গে একটু ওটস গুঁড়া করে মিশিয়ে মুখে আস্তে আস্তে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। যেকোনো ধরনের দাগ দূর করতে এই স্ক্র্যাবার খুবই কার্যকর।
ত্বকে ব্যবহারের পাশাপাশি ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়। যারা ডায়েট করতে চান তাদের জন্য ডাব অনেক উপকারী। কারণ ডাবে রয়েছে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম। ডাবের পানি পানে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না। মিষ্টি ডাবের পানি নিম্ন রক্তচাপে আক্রান্তদের জন্য খুবই ভালো। ডাবের পানি শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
পুষ্টিবিদ লিনা আক্তারের মতো, ডাবের পানির নানা উপকারিতা রয়েছে। ডাবের পানি প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন। শরীরের বাইরে থেকে ভেতরের পুষ্টিটা ঠিক রাখা জরুরি। ডাবের পানিতে আছে হাই পটাশিয়াম। সেটাও ত্বকের জন্য উপকারী। রোদে গেলে আমরা অনেক ঘামি, সে সময় ডাবের পানি খেলে ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স হয় আবার শরীর বিষমুক্তও (ডিটক্সিফিকেশন) হয়।
আমাদের শরীরের কোষে ভেতরে ও বাইরে দুই ধরনের মিনারেল থাকে। ভেতরে পটাশিয়াম ও বাইরে থাকে সোডিয়াম। সোডিয়ামের মাত্রা বাড়লে উচ্চ রক্তচাপ হয়। রক্তে সোডিয়ামের প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে পটাশিয়াম। ডাবের পানি পানে রক্তচাপের ভারসাম্য ঠিক থাকে। তবে অবশ্যই কচি ডাবের পানি পান করতে হবে। ডাব যত বড় হবে, চিনি ও ক্যালোরি তত বাড়তে থাকবে।
ডাবের পানি মাংসপেশি তৈরিতে কাজে আসে। ফলে পেশিতে টান (মাসল ক্র্যাম্প) পড়ে না। রোদে শরীরের তরলের ঘাটতি হয়, আর্দ্রতা হারায়। তাই এ সময় ডাব পান করা ভালো। আর ডাবের পানিতে মুখ ধুলে ত্বক তো ভালো থাকবেই।
ডাব দিয়ে তৈরি নানা রকম শরবত : ডাবের পানি ও নরম শাঁস দিয়ে তৈরি করা যায় নানা স্বাদের শরবত।
সহজলভ্য এ প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে ঘরেই বানানো সম্ভব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পানীয়। ডাবের পানির সঙ্গে নরম শাঁস মিশিয়ে ব্লেন্ড করলে তৈরি হয় মসৃণ ও হালকা মিষ্টি স্বাদের শরবত। চাইলে এর সঙ্গে লেবুর রস যোগ করে আনতে পারেন হালকা টক স্বাদ। কয়েকটি পুদিনাপাতা মেশালে পানীয়তে যোগ হবে সতেজ সুবাস।
ডাবের শরবতে ভিন্নতা আনতে ব্যবহার করা যায় আনারস, তরমুজ কিংবা পাকা আমের মতো ফল। ডাবের পানি ও আনারসের টুকরা একসঙ্গে ব্লেন্ড করলে পাওয়া যায় মিষ্টি-টক স্বাদের পানীয়। তরমুজের সঙ্গে ডাবের পানি মিশিয়েও তৈরি করা যায় সুস্বাদু শরবত। আর আমের মৌসুমে পাকা আমের শাঁস, ডাবের পানি ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে বানানো যেতে পারে আম-ডাবের শরবত।
যারা একটু ভিন্ন স্বাদ পছন্দ করেন, তারা ডাবের পানির সঙ্গে শসা, পুদিনাপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন হালকা পানীয়। চাইলে সামান্য বিটলবণও দেওয়া যায়। তবে ফলের নিজস্ব মিষ্টি স্বাদ থাকায় বাড়তি চিনি না দিলেও চলে।
ডাবের পানি পটাশিয়ামসহ কিছু খনিজ উপাদানের উৎস। শরবত তৈরির সময় ডাবের নরম শাঁস ব্যবহার করলে পানীয়ের স্বাদ ও গঠনে আসে ভিন্নতা। পরিষ্কার উপকরণ ও পাত্রে তৈরি করে পরিবেশনের আগে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখলে স্বাদ আরও উপভোগ্য হয়।
* মডেল : প্রভা * ছবি : এটিএম জামাল
