শীতের আগেই সচেতনতা
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতেই আসে নানা পরিবর্তন। এর প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকেও। লিখেছেন— মুনিয়া আক্তার
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শীত আসার আগে থেকেই অনেকের ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। কারও ঠোঁট ফাটে, কারও মুখে দেখা দেয় টানটান ভাব, আবার কারও ত্বকে চুলকানি ও অস্বস্তি তৈরি হয়। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে, এখন থেকেই ত্বকের যত্নে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সঠিক পরিচর্যা ও কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন ত্বককে রাখতে পারে সুস্থ, কোমল ও সতেজ।
শীতের আগমনে বাতাসের আর্দ্রতা কমতে শুরু করে। ফলে ত্বক থেকে স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল, কড়া সাবান ব্যবহার এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী ব্যবহার না করাও শুষ্কতার কারণ হতে পারে। যাদের ত্বক আগে থেকেই শুষ্ক বা সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্বকের পরিচর্যার রুটিনেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
শীতের আগে ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্দ্রতা ধরে রাখা। এ জন্য ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিমভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া যেতে পারে। হাত-পা ও শরীরের অন্যান্য শুষ্ক অংশেও নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন।
ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, তবে অতিরিক্ত পরিষ্কার করতে গিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক তেল নষ্ট করা যাবে না। এ জন্য মৃদু ও সাবানমুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো। দিনে দুবার মুখ পরিষ্কার করাই সাধারণত যথেষ্ট। খুব গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া বা গোসল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখ মোছার সময় তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষা উচিত নয়; বরং আলতোভাবে চেপে পানি মুছে নিতে হবে।
অনেকের ধারণা, শীতকালে রোদের তীব্রতা কম থাকায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। ধারণাটি ঠিক নয়। মেঘলা দিনেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মানের ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে দুই ঘণ্টা পরপর এবং ঘাম হলে আরও আগে পুনরায় লাগাতে হবে।
শীতের শুরুতেই ঠোঁট শুষ্ক ও ফাটতে পারে। তাই নিয়মিত পেট্রোলিয়াম জেলি বা ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করা ভালো। ঠোঁটের শুষ্ক চামড়া টেনে তোলা বা বারবার জিহ্বা দিয়ে ভেজানো উচিত নয়। একইভাবে হাত-পায়ের যত্নেও অবহেলা করা যাবে না। প্রতিবার হাত ধোয়ার পর হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। পায়ের গোড়ালি শুষ্ক হলে রাতে ময়েশ্চারাইজার বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে মোজা পরা যেতে পারে।
মরা কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশন বা ত্বকের ওপরের মৃত কোষ পরিষ্কারের পদ্ধতি কাজে আসতে পারে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করে জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়াতে পারে। তাই ত্বকের ধরন বুঝে মৃদু এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করতে হবে। সংবেদনশীল ত্বকে এটি ব্যবহারের আগে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ত্বকে লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
ত্বকের সুস্থতা শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে না। সুষম খাবারও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, ডিম ও মাছ রাখা যেতে পারে। এসব খাবারে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
মডেল : প্রিয়ন্তী। * ছবি : রাহুল রায় মিশুক
