ফোনের ডার্ক মোড কি সত্যিই ব্যাটারি বাঁচায়
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

আজকাল প্রায় সব স্মার্টফোনেই ‘ডার্ক মোড’ সুবিধা থাকে এবং অনেক ব্যবহারকারী এটি সব সময় চালু রাখেন। তাদের বিশ্বাস, এতে ডিভাইসের শক্তি বা ব্যাটারি কম খরচ হয় এবং চোখের ওপর চাপও কম পড়ে। প্রথম দেখায় গাঢ় রঙের পর্দা চোখে আরাম দেয়, কারণ উজ্জ্বল আলো সরাসরি চোখে বিঁধে না। কিন্তু ডার্ক মোড নিয়ে আমাদের প্রচলিত ধারণা কি পুরোপুরি সঠিক? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনের সত্যটি বেশ ভিন্ন।
ডার্ক মোড ও ব্যাটারি সাশ্রয়ের আসল রহস্য : ‘মেক ইউজ অফ’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডার্ক মোড নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে ওএলইডি (OLED) পর্দা ঘিরে। অনেকের ধারণা, কালো পিক্সেলগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনো বিদ্যুৎ খরচ করে না। এটি তাত্ত্বিকভাবে সত্য হলেও, বাস্তবে আমরা যখন ফোন ব্যবহার করি তখন পর্দা সব সময় সম্পূর্ণ কালো থাকে না। অধিকাংশ অ্যাপ ও অপারেটিং সিস্টেম ডার্ক মোডে একদম কুচকুচে কালোর বদলে গাঢ় ধূসর (Deep Gray) রঙ ব্যবহার করে। এই ধূসর পিক্সেলগুলো জ্বলে থাকার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ফলে ব্যাটারি সাশ্রয় অনেক সময় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়। অর্থাৎ, ডার্ক মোড সব পরিস্থিতিতে জাদুকরীভাবে ব্যাটারি বাঁচাবে- এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
পাঠযোগ্যতা ও চোখের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব : পড়ার অভিজ্ঞতার দিক থেকেও ডার্ক মোড সব সময় সেরা নয়। বহু শতাব্দী ধরে বই ও সংবাদপত্র সাদা কাগজে কালো অক্ষরে ছাপা হয়, কারণ এই বৈপরীত্য বা কনট্রাস্ট চোখের জন্য সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক। ডার্ক মোডে গাঢ় প্রেক্ষাপটে হালকা রঙের লেখা দেখানো হয়। দীর্ঘ সময় এভাবে পড়লে চোখের মণি বা পিউপিলকে বেশি কাজ করতে হয়, যা চোখের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক স্মার্টফোনে ডার্ক মোডের রঙের সঠিক সমন্বয় (Color Harmoû) করা হয় না, ফলে অক্ষরের স্পষ্টতা কমে যায় এবং চোখের ক্লান্তি বাড়ে। যাদের চোখের দৃষ্টিতে সূক্ষ্ম ত্রুটি (Astigmatism) আছে, তাদের জন্য ডার্ক মোডে পড়া আরও কষ্টকর হতে পারে।
নকশা ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা (User Experience) : নকশা বা ডিজাইনের দিক থেকেও ডার্ক মোড সব অ্যাপে মানানসই হয় না। অনেক অ্যাপের আদি নকশা তৈরি করা হয়েছিল ‘লাইট মোড’ বা উজ্জ্বল পর্দার জন্য। পরবর্তীতে সেগুলোতে ডার্ক মোড যোগ করা হয়েছে। এর ফলে অনেক সময় রঙ ও প্রতীক (ওপড়হ) ঠিকভাবে ফুটে ওঠে না। উদাহরণস্বরূপ, কিছু অ্যাপে নীল বা রঙিন প্রতীক সাদা প্রেক্ষাপটে যতটা স্পষ্ট দেখা যায়, কালো বা গাঢ় প্রেক্ষাপটে ততটাই অস্পষ্ট ও অদ্ভুত লাগে। এতে ব্যবহারকারীর সামগ্রিক অভিজ্ঞতা বিঘ্নিত হয়।
ডার্ক মোড না কি লাইট মোড : এক সময় ডার্ক মোড ছিল কেবল একটি জনপ্রিয় ফ্যাশন বা ‘ট্রেন্ড’। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীরা এর সীমাবদ্ধতা বুঝতে শুরু করেছেন। এটি যেমন সব ফোনে ব্যাটারি বাঁচায় না, তেমনি সব অ্যাপে চোখের জন্যও উপকারী নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, দিনের আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশে ‘লাইট মোড’ ব্যবহার করা চোখের জন্য ভালো।
অন্যদিকে, ঘুমানোর আগে বা অন্ধকার পরিবেশে ‘ডার্ক মোড’ ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে নীল আলোর (Blue Light) প্রভাব কম পড়ে। ডার্ক মোড ব্যবহার করা বা না করা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়। যদি এটি ব্যবহার করতে গিয়ে আপনার পড়তে অসুবিধা হয় বা ফোনের ইন্টারফেস পছন্দ না লাগে, তবে তা বন্ধ করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
