স্বাস্থ্য কর্নার
হাড়কাঁপানো শীতে সুস্থ থাকতে যা করবেন
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ ডেস্ক

শীত মানেই শুধু গরম পোশাক পরা নয় কারণ শীতকালে আসে বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি : হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, ডায়রিয়া, এমনকি হৃদরোগের জটিলতাও শীতে বেড়ে যায়। তাই এই সময় শুধু সচেতন হলেই অনেক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
শীতে কোন কোন রোগের ঝুঁকি বেশি : ‘শীতকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কমে যায়। ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ বাড়ে। ঠান্ডাজনিত কারণে রক্তনালিও সংকুচিত হয়, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে’- মন্তব্য করেন, ‘হেল্থ এইড’ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আফিফ বাসার। এছাড়াও, ‘শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও স্ট্রোকের ছুঁকি বেশি দেখা যায়’- বলেন তিনি।
শরীর গরম রাখতে যা করা যায় : শীতে সুস্থ থাকার প্রথম শর্তই হল শরীর উষ্ণ রাখা। হালকা হলেও একাধিক স্তরের পোশাক পরা ভালো। গরম কাপড়ের পাশাপাশি মাথা, কান, গলা ও পা ঢেকে রাখা জরুরি। কারণ এসব জায়গা দিয়ে শরীরের তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়। ভোর ও গভীর রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো। শিশুরা যাতে খোলা বাতাসে বেশি সময় না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
খাবার ও পানীয়তে সতর্কতা : শীতে অনেকেই পানি কম পান করেন, যা ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। ডা. বাসারের পরামর্শ, ‘তাই শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি। গরম স্যুপ, দুধ, খিচুড়ি, সবজি ও মৌসুমি ফল শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখে। অতিরিক্ত তেলঝাল খাবার এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এতে হজমের সমস্যা বাড়তে পারে।’
পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত যত্ন : শীতে হাত ধোয়ার প্রবণতা কমে যায়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করা জরুরি। ঠান্ডা লাগলেও নিয়মিত কুসুম গরম পানিতে গোসল করা যেতে পারে। তবে গোসলের পর দ্রুত শুকনা কাপড় পরতে হবে।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি যত্ন : শিশু ও বয়স্কদের শরীর ঠান্ডার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে না। তাই তাদের উষ্ণ পোশাক পরানো, রাতে অতিরিক্ত কম্বল ব্যবহার এবং ঠান্ডাজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার লক্ষণ হল- দ্রুত শ্বাস, বুক ধড়ফড় করা বা জ্বর। এগুলো দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে- পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
শীতে ব্যায়াম ও রোদ পোহানো : শীতের সকালে হালকা রোদ শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। খুব ভোরে নয়, রোদ ওঠার পর কিছুক্ষণ হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা ভালো। তবে ঠান্ডা বাতাসে ব্যায়াম এড়িয়ে চলাই ভালো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা সংক্ষেপে : তীব্র শীত ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের জানালা-দরজা মেরামত করে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ রোধ, রোগীদের জন্য কম্বল ও মশারি সরবরাহ, শীতকালীন রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন মজুত রাখা, শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে নিয়মিত রাউন্ড, রোগী ও স্বজনদের স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রদান, প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠানো এবং হাসপাতাল প্রধানদের বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করা।
এসব নির্দেশনার মাধ্যমে শীতকালীন রোগের ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিয়েছে অধিদপ্তর।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে : ‘দীর্ঘদিন জ্বর না কমলে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে’- বলেন, ডা. আফিফ বাসার।
