২০২৬ সালে আসছে যেসব ফোল্ডেবল ফোন
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
প্রযুক্তি ডেস্ক

মাত্র কয়েক বছর আগেও ফোল্ডেবল ফোনকে মনে করা হতো বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ। অথচ এখন বাজারে এত বেশি ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আসছে যে, আলাদা করে তালিকা বানাতে হচ্ছে। ফোল্ডেবল ফোনের জন্য ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে বড় ১ বছর। এই প্রযুক্তি এখন আর পরীক্ষামূলক নয়, বরং স্মার্টফোন বাজারের একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী ক্যাটাগরিতে পরিণত হয়েছে। গুজব সত্যি হলে স্যামসাং, অ্যাপল, গুগল ও মটোরোলার মতো পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় সব বড় নির্মাতাই ২০২৬ সালে ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আনবে। এর মধ্যে কিছু হবে আগের মডেলের আপডেট, আবার কিছু হবে সম্পূর্ণ নতুন ও অত্যাধুনিক নকশার ডিভাইস।
চলুন দেখে নেওয়া যাক- ২০২৬ সালে যেসব ফোল্ডেবল ফোন আসার কথা নিশ্চিত বা গুঞ্জন রয়েছে।
স্যামসাংয়ের একাধিক ফোল্ডেবল ফোন : চীনের বাইরে ফোল্ডেবল ফোন বাজারে স্যামসাং বেশ কয়েক বছর ধরেই শীর্ষে রয়েছে। ২০২৬ সালেও সেই আধিপত্য ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর স্যামসাং থেকে অন্তত তিনটি, এমনকি চারটি ফোল্ডেবল ফোন আসতে পারে। সবচেয়ে আলোচিত ডিভাইসটি হলো ‘গ্যালাক্সি জেড ট্রিফল্ড’। এটি গত বছর এশিয়ায় সীমিত আকারে উন্মোচিত হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের শুরুতে পশ্চিমা বাজারে আসার কথা রয়েছে। ফোনটিতে থাকবে ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চির কভার ডিসপ্লে, স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট প্রসেসর ও ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ- যা অনেকটা ‘গ্যালাক্সি জেড ফল্ড ৭’-এর মতো। তবে পার্থক্য হলো, এতে থাকবে দুটি হিঞ্জ, যার ফলে ভেতরের স্ক্রিন আরও বড় হবে। এটি হবে স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় ফোল্ডেবল ফোন এবং পশ্চিমা বাজারে প্রথম ট্রাই-ফোল্ড ডিভাইস।
এছাড়া নিয়মিত আপডেট হিসেবে আসতে পারে ‘গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৮’ ও ‘গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮’। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন মডেলগুলো আগের তুলনায় হালকা হবে এবং ব্যাটারি ক্যাপাসিটিও বাড়ানো হবে। আরও একটি নতুন ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে স্যামসাং— যাকে বলা হচ্ছে ‘ওয়াইড ফোল্ড’। এটি জেড লোল্ড সিরিজের মতো হলেও ভেতরের স্ক্রিন হবে আরও বড় এবং বাইরের স্ক্রিন তুলনামূলক ছোট। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে স্যামসাং থেকে চারটি ফোল্ডেবল ফোন দেখা যেতে পারে।
মটোরোলার নতুন চিন্তা : গত বছর মটোরোলা বাজারে আনে তিনটি ক্ল্যামশেল ফোল্ডেবল ফোন— র্যাজার, র্যাজার প্লাস ও র্যাজার আল্ট্রা। যদিও এ বছর এগুলোর আপডেট আসবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে মটোরোলা যে ফোল্ডেবল বাজারে বড় কিছু করতে চায়, তা স্পষ্ট।
প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দেয় মটোরোলা র্যাজার ফোল্ড নামের একটি নতুন ডিভাইসের। এটি হবে মটোরোলার প্রথম বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ফোন। এতে থাকবে ৬ দশমিক ৬ ইঞ্চির কভার ডিসপ্লে ও ৮ দশমিক ১ ইঞ্চির ভেতরের স্ক্রিন, সঙ্গে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা এবং বিভিন্ন এআই ফিচার। যদিও এখনও দাম ও বাজারে আসার সময় জানানো হয়নি, তবে এটি নজরকাড়া একটি ডিভাইস হতে পারে।
আইফোন ফোল্ড, সবচেয়ে বড় চমক : ফোল্ডেবল ফোনের দৌড়ে এতদিন অ্যাপল ছিল একেবারেই অনুপস্থিত। তবে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষের দিকে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করতে পারে। এই ফোনে থাকতে পারে ৫.৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে, যা খুললে ৭.৮ ইঞ্চির বড় স্ক্রিনে পরিণত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, দেখতে এটি হবে যেন দুটি আইফোন এয়ার একসঙ্গে জোড়া দেওয়া। ক্যামেরা সেটআপে থাকতে পারে মোট চারটি ক্যামেরা— পেছনে দুটি, ভেতরে একটি ও সামনে একটি। অ্যাপল বরাবরের মতোই তথ্য গোপন রেখেছে, তবে সব ইঙ্গিত বলছে— আইফোন ফোল্ড এবার বাস্তব হতে চলেছে।
গুগল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড : গুগল গত বছর পিক্সেল ১০ প্রো ফোল্ড দিয়ে আবার ফোল্ডেবল বাজারে ফেরে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে আসতে পারে পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড। ২০২৫ সালের শুরুতেই জানা যায়, ‘ইয়গি’ কোডনেমে ডিভাইসটি উন্নয়নাধীন রয়েছে। যদিও বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন এখনও প্রকাশ হয়নি, তবে নতুন চিপসেট ও উন্নত ক্যামেরা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গুগলের বার্ষিক পিক্সেল ইভেন্টেই এ বিষয়ে আরও তথ্য মিলতে পারে।
চীনে মিলবে আরও বেশি বিকল্প : পশ্চিমা বাজারের বাইরে, বিশেষ করে চীনে ফোল্ডেবল ফোনের সংখ্যা আরও বেশি। ওপো, হনর ও হুয়াইয়ে-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো সেখানে নিয়মিত নতুন ফোল্ডেবল আনছে। ওপো আনতে পারে ফাইন্ড এন৬ ও ফাইন্ড এন৭। এন৬ হবে বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল, আর এন৭ হবে ওয়াইড-স্টাইল— আইফোন ফোল্ডের মতো। হনর কাজ করছে ম্যাজিক ভি৭ নিয়ে, যেখানে থাকবে উন্নত চিপ ও বড় ব্যাটারি। এদিকে হুয়াইয়ে আনছে পুরা এক্স২, একটি ভিন্নধর্মী ফ্লিপ ফোন, যার ভেতরের ডিসপ্লে হবে ১৬:১০ অনুপাতের। এটি আসতে পারে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সাল ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের জন্য এক ঐতিহাসিক বছর হতে যাচ্ছে। নতুন ডিজাইন, বড় ডিসপ্লে, উন্নত ব্যাটারি ও এআই ফিচারের সমন্বয়ে এই ক্যাটাগরি আরও পরিণত রূপ পাবে। বছরের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হওয়াটাও প্রায় নিশ্চিত।
