বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে উল্কাপাত ও গ্রহদের লুকোচুরি

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  প্রযুক্তি ডেস্ক

এপ্রিল মাসের প্রথমভাগে বাংলাদেশের আকাশে দেখা মিলেছে একাধিক গ্রহের কুচকাওয়াজ আর পূর্ণিমা। এই রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল শুক্রবার থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাতের আকাশ সাজবে নতুন সাজে। বিশেষ করে এই সময়ে মহাকাশের অন্যতম আকর্ষণীয় ঘটনা লাইরিড উল্কাপাত এবং গ্রহদের কক্ষপথের পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। লাইরিড উল্কাপাত এপ্রিলের শেষার্ধের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো লাইরিড উল্কাপাত। প্রতিবছর এই সময়ে পৃথিবী যখন সি/১৮৬১ জি১ থ্যাচার নামের ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মেঘ অতিক্রম করে, তখনই এই চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়। এই উল্কাপাত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চললেও সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে ২২ এপ্রিল রাত থেকে ২৩ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত। আকাশ পরিষ্কার থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। লাইরিড উল্কাগুলো বেশ উজ্জ্বল হয় এবং অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী আলোর রেখা রেখে যায়।

গ্রহদের অবস্থান ও চাঁদের লুকোচুরি

এপ্রিলের শেষ দুই সপ্তাহে গ্রহগুলোর অবস্থান পরিবর্তন হবে। এ সময় পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ তার উজ্জ্বলতা বজায় রাখলেও এটি ধীরে ধীরে দিগন্তের আরও নিচে নেমে যাবে। অন্যদিকে মঙ্গল গ্রহের লালচে আভা সন্ধ্যার আকাশে বেশ স্পষ্ট দেখা যাবে। এ মাসের শেষ দিকে সূর্যোদয়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে পুব আকাশে শনি গ্রহ বেশ উঁচুতে অবস্থান করবে। শনির গ্রহের খুব কাছেই থাকবে বরফদানব নেপচুন; তবে এটি দেখার জন্য শক্তিশালী টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে। সূত্র: স্কাইম্যাপ অনলাইন ও স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি।

আজকের পর চাঁদ তার ক্ষীয়মাণ দশায় প্রবেশ করবে।

২১ এপ্রিলের দিকে চাঁদ যখন লাইরা নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি থাকবে, তখন এর মৃদু আলো উল্কাপাত দেখার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এপ্রিলের শেষ দিকে বাংলাদেশের আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জের বিন্যাসে এক বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। দক্ষিণ আকাশে এখন চারকোনা আকৃতির করভাস বা কাক নক্ষত্রপুঞ্জ নামের ছোট কিন্তু স্পষ্ট নক্ষত্রপুঞ্জটি দেখা যাবে। এ সময় দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে উজ্জ্বল নীলচে নক্ষত্র স্পাইকা এখন তার পূর্ণ মহিমায় জ্বলজ্বল করছে। এটি কন্যা রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের অংশ। উত্তর-পূর্ব আকাশে কমলা রঙের উজ্জ্বল আর্কটারাস নক্ষত্রটি এখন সহজেই চোখে পড়বে। এটি আকাশের চতুর্থ উজ্জ্বলতম নক্ষত্র এবং বসন্তের আকাশের অন্যতম প্রধান নির্দেশক।