পাকিস্তান-তালেবান সম্পর্কের অবনতির রহস্য

অধ্যাপক শাব্বির আহমদ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর বিতর্কিত আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশকিছু সামরিক-বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। শুধু তা-ই নয়, তালেবান সীমান্তরক্ষী কর্তৃক বেড়ার কিছু অংশ ভেঙে ফেলাও হয়। তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার আগেও বেশ কয়েকবার সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্ত নিয়ে পাক-আফগান বিরোধ অনেক আগের। অবৈধ চোরাচালান ও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা রোধকল্পে পাকিস্তান এ সীমান্তে স্থায়ী বেড়া দিতে চায়। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া বেড়া ও চেকপোস্ট নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্প বাবদ পাকিস্তানকে ব্যয় করতে হচ্ছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর ইসলামাবাদের প্রত্যাশা : ১৯৯৬ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর ইসলামাবাদ প্রত্যাশা করেছিল, দীর্ঘদিনের এ সমস্যা তালেবানের সহযোগিতায় সমাধান হবে; কিন্তু তালেবান ১৯৯৬-২০০১-এ ক্ষমতায় থাকার সময়েও সীমান্তের সমস্যার সমাধান করেনি। তালেবানের সংস্কৃতি ও তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী জাবিউল্লাহ মুজাহিদও পাকিস্তানের সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিরোধিতা করে কড়া বিবৃতি দেন। এমন পরিস্থিতিতে উপমহাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিমত। আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ভারতের প্রথম আশঙ্কা ছিল, পাকিস্তানের মাধ্যমে তালেবান যোদ্ধারা কাশ্মীরে ঢুকবে। এর আগে আফগানিস্তানে তালেবান শাসনপর্বে তেমনই ঘটেছিল। ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে বর্তমান তালেবানের সম্পর্ক যাতে তিক্ত হয়, ভারত বরাবর তেমনই চেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি খানিকটা তেমনই। পাকিস্তানের ডন পত্রিকার এক বিশ্লেষকও বলেছেন, আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা বর্তমান তালেবান আর অতীতে যে তালেবানকে ইসলামাবাদ মোকাবিলা করেছে, তারা এক নয়।

কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সমালোচনা : ১৮৯৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আফগানিস্তানের তৎকালীন শাসক আবদুর রহমান খানের সঙ্গে এক চুক্তি সই করে। ওই চুক্তিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিভক্তরেখা নির্ধারণ করা হয়; যার নাম হয় ডুরান্ড লাইন। কিন্তু ওই চুক্তির কোনো সময়সীমা ছিল না বলে এ লাইনটি এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার স্থায়ী সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। পাকিস্তান এটিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে পরিণত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেও দৃশ্যত আফগানিস্তানের পক্ষে এ উদ্যোগ মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বারবার জানিয়ে দেওয়া হয়। আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চল ও পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের মরুভূমির সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক ‘সীমান্ত পারাপারের স্থান’ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। এর বদলে সীমান্ত দিয়ে চলাচলের জন্য ১৬টি স্থানে আনুষ্ঠানিক তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি ইসলামাবাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, তার দেশ স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এক তরফাভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ অব্যাহত রাখবে। কাঁটাতার বেড়া নির্মাণে পাকিস্তানকে বাধা দিতে তালেবান সীমান্ত বাহিনীর সাম্প্রতিক প্রয়াসের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে তালেবান মুখপাত্র কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সমালোচনা করে বলেন, ‘পাকিনস্তনের ডুরান্ড লাইন বরাবর কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার এবং লাইন বরাবর উপজাতীয়দের বিচ্ছিন্ন করার কোনো অধিকার নেই।’

দ্য গ্রেট গেইম বা সেরা খেলা : আফগানিস্তান শত শত বছর ধরে স্বাধীন একটি রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ১৮৩০ সালের দিকে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ থেকে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও ওসমানীয় সালতানাতের ভেতর দিয়ে ইউরোপ পর্যন্ত একটা বাণিজ্যিক পথ চালুর উদ্যোগ নেয়। যার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল, আফগানিস্তানকে একটা বাফার স্টেটে (বৃহৎ দু’সাম্রাজ্যের মাঝে নিরপেক্ষ এলাকা হিসেবে থাকা ক্ষুদ্র দেশ) পরিণত করে ক্রমবর্ধমান রুশ সাম্রাজ্যের ভারত মহাসাগর বা পারস্য উপসাগরে নামার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া। তখন আফগানিস্তান ও তিব্বতকে নিজেদের পক্ষে টানতে রুশ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মাঝে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯০৭ সাল পর্যন্ত চলা এ শীতল যুদ্ধকে ইতিহাসে ‘দ্য গ্রেট গেইম বা সেরা খেলা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রায় পুরো উনিশ শতক ধরে আফগানিস্তান রুশ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মাঝে তথাকথিত এ ‘গ্রেট গেম’-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ গুটিতে পরিণত হয়।

ডুরান্ড লাইনের নামকরণ : রাশিয়া একের পর এক মধ্যএশীয় অঞ্চল দখল করতে করতে ব্রিটিশ ভারতের পানির সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত চলে আসে। তখন ব্্িরটিশ ভারত মধ্যএশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। কিন্তু আফগানিস্তানকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। ব্রিটিশরা তখন আফগানিস্তান দখলে নিতে কয়েকবার আক্রমণ চালায়। ১৮৮০ সালের দিকে দ্বিতীয় অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধের পরে আফগানিস্তানের তখনকার আমির ব্রিটিশের হাতে একরকম আটকা পড়ে যান। তখন আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্রিটিশের অধীনে এবং অভ্যন্তরীণ কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীন একটা দেশে পরিণত হয়। কৌশলগত খাইবার পাসের নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষায় তখন ব্রিটিশ ভারত তাদেরই অধীনস্থ আফগান আমির আবদুর রহমান খানকে একটা সীমান্ত চুক্তি করতে বাধ্য করে। এর পরপরই ১৮৮৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার মার্টিমার ডুরান্ড এ সীমানা নির্ধারণী রেখাটি আঁকেন বলে এর নামকরণ হয় ‘ডুরান্ড লাইন’।

পাঠান ও বেলুচরার আঞ্চলিকভাবে বিভাগ : ১৮৯৩ সালে স্বাক্ষরিত সেই ডুরান্ড লাইন চুক্তির কারণে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাখতুন বা পশতুন ও বেলুচিস্তানের প্রায় অর্ধেকটারও বেশি ব্রিটিশ ভারতের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন আফগান আমির আবদুর রহমান। এতে পশতুন উপজাতিদের একটা বড় অংশ ব্রিটিশ ভারতের অংশ হয়ে যায়; বাকিটুকু আফগানিস্তানের অংশ হিসেবে থেকে যায়; অর্থাৎ পশতুন বা পাঠান ও বেলুচরা আঞ্চলিকভাবে দু’ভাগ হয়ে যায়। এ চুক্তিটির মাধ্যমে তখন আফগানিস্তান ও ব্রিটিশ ভারতের ২ হাজার ৬৪০ কিলোমিটার লম্বা সীমানা নির্ধারণ করা হয়। তখন পাকিস্তানের নামগন্ধও ছিল না। এ ডুরান্ড লাইন তখন দেশের ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণের চেয়ে মূলত দু’দেশের প্রভাব বিস্তারের অঞ্চল হিসেবে বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু আফগানিস্তান তার আরব সাগরের তীরবর্তী বেলুচিস্তান প্রদেশকে হারায় এবং সমুদ্রের সঙ্গে একমাত্র সংযোগস্থলটিও হাতছাড়া হয়ে যায়। ফলে তখন থেকেই আফগানিস্তান হয়ে পড়ে স্থলবেষ্টিত একটি দেশে।

ডুরান্ড লাইন সমস্যার সমাধানে বাধা : ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে বসবাসকারী পাঠানদের দৈনন্দিন জীবনে এ সীমানা তেমন কোনো প্রভাব ফেলত না। তারা বিনা বাধায় সেখানে চলাচল করতে পারত। কিন্তু ঝামেলা বাঁধে ১৯৪৭ সালের পরে, যখন ব্রিটিশরা এ অঞ্চল ছেড়ে যায় এবং পাকিস্তানের জন্ম হয়; অর্থাৎ আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারিত হয় ব্রিটিশদের আঁকা সেই ডুরান্ড লাইনকে ভিত্তি করে। ব্রিটিশরা ভারত ছাড়ার প্রস্তুতিকালে আফগানিস্তান তার এ সীমানা সংশোধনের দাবি তুললেও ব্রিটেন এ বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

তাই শুরুতে পাকিস্তানের জন্ম মেনে নিতে পারেনি আফগানিস্তান। এমনকি ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান যখন জাতিসংঘে যোগ দেয়ার আবেদন করে, তখন একমাত্র আফগানিস্তানই তার সদস্যপদের বিরুদ্ধে ভেটো প্রদান করে। পরে অবশ্য ব্রিটেন ও আমেরিকার চাপে আফগানিস্তান ভেটো প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। কিন্তু দেশটি ডুরান্ড লাইন মেনে নেবে না বলে ঘোষণা দেয়। পাকিস্তান তার ভেতরের পশতুন ও বেলুচ অঞ্চলকে নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে। এরপর থেকে বহুবার আলোচনায় আসে এ ডুরান্ড লাইন। পাকিস্তান ব্রিটেন ও আমেরিকার সমর্থন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দোহাই দিয়ে এ লাইনকেই আফগানিস্তানের সঙ্গে তার আসল সীমানা হিসেবে গণ্য করে। পরবর্তীকালে আফগানিস্তান ঘোষণা করে, ডুরান্ড লাইন চুক্তি ও অ্যাংলো-আফগান চুক্তিগুলো অকার্যকর। কেননা, আফগান শাসকরা তখন ব্রিটিশদের চাপে বাধ্য হয়েছিল চুক্তি সই করতে। স্নায়ুযুদ্ধকালে পাকিস্তান আমেরিকার মিত্র হয়ে ওঠে এবং আফগানিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পায়।

আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বৃহত্তর শত্রুতা তখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। আর এ বিরোধ ডুরান্ড লাইন সমস্যার সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করে।

১৯৭৯ সালে সোভিয়েত রাশিয়া যখন আফগানিস্তান আক্রমণ করে, তখন এ মার্কিন-পাকিস্তান পক্ষ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদদের সমর্থন দেয়। এ মুজাহিদরা ছিল মূলত পশতুন উপজাতি অঞ্চল থেকে আগত তথা পাঠান। তখন থেকেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে শুরু করে। অনেকে বলে থাকেন, আসলে পাকিস্তানের জন্য একটা অস্থিতিশীল আফগানিস্তান মন্দের ভালো। কেননা, আফগানিস্তান যত স্থিতিশীল হবে এবং শক্তিশালী হবে, ডুরান্ড লাইন নিয়ে ততই সোচ্চার হবে। আর শক্তিশালী আফগানিস্তানের ডুরান্ড লাইন না মানার অর্থ হলো, পাকিস্তানের অস্তিত্ব ধরে টান দেওয়া!

তালেবান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারণা : ১৯৯২ সালে রুশপন্থি নাজীবুল্লাহ সরকারের পতনের মাধ্যমে আফগানিস্তানে রাশিয়ার পরাজয় ঘটে। মুজাহিদদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও বিবাদের রেশ ধরে ক্ষমতায় আসে ‘তালেবান’ নামক সংগঠনটির সদস্যরা। এ তালেবানও মূলত পশতুনদের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা একটি সংগঠন। পাকিস্তান তখন এ তালেবানকে সহযোগিতা করে ক্ষমতায় আসতে। ১৯৯৬ সালে তালেবান ক্ষমতায় এলে মাত্র তিনটি দেশ তাদের স্বীকৃতি দেয়- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান। পাকিস্তান তখন তালেবানের কাছ থেকে ডুরান্ড লাইনের স্বীকৃতি চায়; কিন্তু তালেবান তা দিতে অস্বীকার করে। অবশ্য তখন তালেবান এ ডুরান্ড লাইন নিয়ে বিস্তারিত ভাবার সময়টুকুও পায়নি। ২০০১ সালে আবার শুরু হয় মার্কিন আগ্রাসন। তখন এ পাকিস্তানই আবার তালেবানের বিরুদ্ধে মার্কিনিদের সহযোগিতা করে।

ফলে বর্তমান তালেবান সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের যতটুকু সখ্যতা গড়ে ওঠার কথা, ততটুকু হয়নি। ডুরান্ড লাইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের দূরত্ব বাড়ছে দিনের পর দিন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ মনে করে, পাকিস্তান সর্বার্থে ইসলামিক রাষ্ট্র নয়। কারণ, তার জন্মের ইতিহাস ঔপনিবেশিক। পাকিস্তানের প্রশাসনিক ভিত্তিও ইসলামিক নয়। এদিকে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তান সুসম্পর্ক বজায় রাখায় পাকিস্তানকে তারা বন্ধু বলে মনে করে না।

ডুরান্ড লাইন মানার মানে বিশ্বাসঘাতকতা : অধিকন্তু বর্তমান তালেবান প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ দীর্ঘদিন পাকিস্তানের জেলে থেকেছেন। তারা পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে পাকিস্তানের ভেতর গোলযোগ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানের কাছ থেকে বিশেষ কোনো সুবিধা পাওয়ারও আশা দেখছে না। এদিকে ডুরান্ড লাইন মেনে নেয়া মানে পশতুনদের সঙ্গে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।

যদিও পাকিস্তানে বসবাসকারী বেশিরভাগ পশতুন বা পাঠানই বর্তমান সীমারেখাকে মেনে নিয়েছেন। তাদের এ নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। কিন্তু এ সীমানা লাইনের বিষয়টি অমীমাংসিত হিসেবে আফগানিস্তানের রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছে। এমতাবস্থায় ১২৮ বছর ধরে ঝুলে থাকা তালেবান কী ডুরান্ড লাইন মেনে নেবে নাকি সিন্ধু নদ পর্যন্ত অঞ্চলকে তাদের নিজস্ব ভূমি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানের অস্তিত্ব ধরে টান দেবে, সেটি এখন দেখার বিষয়।